রামিসা হত্যার রায় ঘিরে আদালতপাড়ায় কড়া নিরাপত্তা


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : জুন ৭, ২০২৬, ১০:৫৯ পূর্বাহ্ণ
রামিসা হত্যার রায় ঘিরে আদালতপাড়ায় কড়া নিরাপত্তা

রাজধানীর পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যার ঘটনায় করা বহুল আলোচিত মামলার রায় আজ রোববার (৭ জুন) ঘোষণা করা হবে। রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে ঢাকা মহানগর আদালত প্রাঙ্গণে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এ মামলার রায় ঘোষণা করবেন বলে জানা গেছে।

মামলার দুই আসামি হলেন রামিসার প্রতিবেশী ভাড়াটিয়া সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার। রায় ঘোষণাকে সামনে রেখে আজ সকালে সোহেল রানাকে কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগার এবং স্বপ্না আক্তারকে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ঢাকার আদালতে আনা হয়। পরে তাদের মহানগর হাজতখানায় রাখা হয়। এর আগে গত ৪ জুন রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আদালত রায়ের জন্য ৭ জুন দিন ধার্য করেন।

মামলার নথি অনুযায়ী, নিহত রামিসা স্থানীয় পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। গত ১৯ মে সকালে বাসা থেকে বের হওয়ার পর প্রধান আসামি সোহেল রানা তাকে কৌশলে নিজেদের কক্ষে নিয়ে যায়। সেখানে শিশুটিকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ।

মেয়ের খোঁজ না পেয়ে একপর্যায়ে আসামিদের কক্ষের সামনে রামিসার জুতা দেখতে পান তার মা। পরে প্রতিবেশীদের সহায়তায় দরজা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করলে রামিসার খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে স্বপ্না আক্তারকে আটক করে। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে প্রধান আসামি সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ঘটনার পরদিন ২০ মে রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন। গ্রেপ্তারের পর আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে সোহেল রানা নিজের অপরাধ স্বীকার করেন।

তদন্ত শেষে পল্লবী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) অহিদুজ্জামান মাত্র পাঁচ দিনের মধ্যে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন, যা দ্রুততম তদন্তগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। পরে ১ জুন আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। মামলায় মোট ১৮ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে বিচারিক কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। দ্রুত বিচার প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে আলোচিত এ মামলার রায় আজ ঘোষিত হতে যাচ্ছে। ভুক্তভোগী পরিবার ও রাষ্ট্রপক্ষ মামলার দুই আসামির সর্বোচ্চ শাস্তির প্রত্যাশা করছে।