শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায় আজ


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : জুন ৭, ২০২৬, ১০:৫৫ পূর্বাহ্ণ
শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায় আজ

রাজধানীর পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা বহুল আলোচিত মামলার রায় ঘোষণা করা হবে আজ রোববার (৭ জুন)। মামলার দুই আসামির সর্বোচ্চ শাস্তির প্রত্যাশা করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার, রাষ্ট্রপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা।

গত ১৯ মে পল্লবীতে সংঘটিত এই মর্মান্তিক ঘটনা দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। ঘটনার মাত্র পাঁচ দিনের মাথায় তদন্ত শেষ করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় পুলিশ। পরে ২৪ মে মামলাটি দ্রুত বিচারের জন্য ঢাকার মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়।

বিচারকের অবকাশকালীন ছুটি বাতিল করে গত ১ জুন দুই আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্নার বিরুদ্ধে ধর্ষণ, হত্যা এবং মরদেহ গোপনের অভিযোগ গঠন করা হয়। একই দিন মামলার বিচার কার্যক্রম শুরু হয়। পরদিন ২ জুন মাত্র এক কার্যদিবসেই সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ করে আদালত। এ সময় রামিসার বাবা-মা, বোন এবং তদন্ত কর্মকর্তাসহ মোট ১৬ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দেন।

৩ জুন আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানিতে প্রধান আসামি সোহেল রানা আদালতে নিজের অপরাধ স্বীকার করে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। তবে অপর আসামি স্বপ্না নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। পরে ৪ জুন রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে ঢাকার মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন ৭ জুন রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেন।

মাত্র পাঁচ কর্মদিবসে একটি ধর্ষণ ও হত্যা মামলার বিচার সম্পন্ন হওয়াকে নজিরবিহীন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু বলেন, সরকারের সদিচ্ছা ও আন্তরিকতার কারণেই এত দ্রুত বিচার সম্ভব হয়েছে। এটি আইন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

আইনজীবীরা মনে করছেন, রামিসা হত্যা মামলার মতো অন্যান্য ধর্ষণ ও শিশু নির্যাতনের মামলাও দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য বিশেষায়িত তদন্ত ব্যবস্থা এবং আধুনিক ফরেনসিক সক্ষমতা বৃদ্ধি প্রয়োজন। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইশরাত হাসান বলেন, প্রতিটি মামলায় দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হলে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত অপরিহার্য। বিশেষ করে শিশু ধর্ষণের মামলার জন্য আলাদা বিশেষায়িত তদন্ত সংস্থা গড়ে তোলা সময়ের দাবি।

উল্লেখ্য, গত ১৯ মে সকালে বাসা থেকে বের হওয়ার পর রামিসাকে কৌশলে একটি কক্ষে নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ। পরে ওই কক্ষ থেকে তার মস্তকবিহীন মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনার পর স্বপ্নাকে ঘটনাস্থল থেকে এবং প্রধান আসামি সোহেল রানাকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর আদালতে সোহেল রানা অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি দেন।