রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : জুন ৭, ২০২৬, ১১:৫৩ পূর্বাহ্ণ
রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড

রায় ঘোষণার সময় বিচারক বলেন, আসামি সোহেল রানা আদালতে নিজের অপরাধ স্বীকার করেছেন এবং সাক্ষ্য-প্রমাণে প্রমাণিত হয়েছে যে, তিনি রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা করেন। এছাড়া আসামি স্বপ্না আক্তার ঘটনাটি সংঘটনে সহযোগিতা এবং পরে সোহেল রানাকে পালিয়ে যেতে সহায়তা করেছেন বলে আদালতের কাছে প্রতীয়মান হয়েছে। এসব বিবেচনায় আদালত দুই আসামিকে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেন।

গত ১৯ মে পল্লবীতে সংঘটিত এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। ঘটনার মাত্র পাঁচ দিনের মধ্যে তদন্ত সম্পন্ন করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় পুলিশ। পরে ২৪ মে মামলাটি দ্রুত বিচারের জন্য ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়।

বিচারকের অবকাশকালীন ছুটি বাতিল করে ১ জুন দুই আসামির বিরুদ্ধে ধর্ষণ, হত্যা ও মরদেহ গোপনের অভিযোগ গঠন করা হয়। একই দিন মামলার বিচার কার্যক্রম শুরু হয়। পরদিন মাত্র এক কার্যদিবসে মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। এ সময় রামিসার বাবা-মা, বোন এবং তদন্ত কর্মকর্তাসহ মোট ১৬ জন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য দেন।

৩ জুন আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানিতে প্রধান আসামি সোহেল রানা আদালতে নিজের অপরাধ স্বীকার করে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। তবে অপর আসামি স্বপ্না আক্তার নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। পরে ৪ জুন রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আদালত ৭ জুন রায়ের দিন ধার্য করেন। মাত্র পাঁচ কর্মদিবসে বিচারিক কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ায় মামলাটি দেশের বিচারিক ইতিহাসে আলোচিত হয়ে ওঠে। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু এ রায়কে দ্রুত বিচার ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখ করেন।

মামলার নথি অনুযায়ী, পপুলার মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসা আক্তার গত ১৯ মে সকালে বাসা থেকে বের হওয়ার পর স্বপ্না আক্তার তাকে কৌশলে নিজের কক্ষে নিয়ে যান। পরে সোহেল রানা শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যা করে। পরবর্তীতে ঘরের ভেতর থেকে রামিসার মস্তকবিহীন মরদেহ এবং বাথরুমের একটি বালতি থেকে তার বিচ্ছিন্ন মাথা উদ্ধার করা হয়।

ঘটনার পর স্বপ্না আক্তারকে ঘটনাস্থল থেকে আটক করে পুলিশ। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা পল্লবী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। গ্রেপ্তারের পর আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে সোহেল রানা অপরাধ স্বীকার করেন। আলোচিত এ মামলার রায়ের মাধ্যমে ভুক্তভোগী পরিবার ও রাষ্ট্রপক্ষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটেছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।