
কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের মাধবপুর গ্রামের গৃহবধূ সুখী খাতুনের মৃত্যুকে হত্যাকাণ্ড দাবি করে জড়িতদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন তাঁর বাবা মো. বকুল শেখ।
গত শনিবার বিকেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বকুল শেখ ও তাঁর স্ত্রী রাবেয়া খাতুন উপস্থিত ছিলেন। এ সময় তারা অভিযোগ করেন, প্রায় ১৫ বছর আগে সুখী খাতুনের বিয়ে একই ইউনিয়নের মাধবপুর গ্রামের প্রবাসী সাইফুল ইসলামের সঙ্গে হয়। স্বামী বিদেশে অবস্থান করায় প্রতিবেশী গ্রামের ফয়সাল নামে এক ব্যক্তি বিভিন্ন সময় তাদের বাড়িতে যাতায়াত করতেন।
পরিবারের দাবি, একপর্যায়ে ফয়সাল গোপনে সুখী খাতুনের ছবি সংগ্রহ করে তা সম্পাদনার মাধ্যমে আপত্তিকর ছবি তৈরি করে ব্ল্যাকমেইল করতেন এবং বিভিন্নভাবে অর্থ আদায় করতেন। এছাড়া সুখী খাতুনের নামে বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋণ তুলে সেই অর্থও আত্মসাৎ করেন বলে অভিযোগ করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বকুল শেখ বলেন, বিষয়টি পরিবারকে জানানো হলে ফয়সাল ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৫ এপ্রিল ২০২৬ সকালে সুখী খাতুনের বাড়িতে গিয়ে কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে তাকে মারধর ও শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। পরে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে উপস্থাপন করার উদ্দেশ্যে মরদেহ ফ্যানের সঙ্গে ওড়না বেঁধে ঝুলিয়ে রাখা হয় বলে দাবি করেন তিনি।
ঘটনার পর পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠায় এবং একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের হয়। পরবর্তীতে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের বিভিন্ন পর্যবেক্ষণ উল্লেখ করে নিহতের পরিবার দাবি করে, এটি আত্মহত্যা নয় বরং হত্যাকাণ্ডের আলামত বহন করে।
এ ঘটনায় গত ২ জুন ২০২৬ তারিখে নিহতের ভাই মো. রুহুল আমিন বাদী হয়ে কুষ্টিয়ার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফয়সাল, তার বাবা আলাউদ্দিন ও ভাবি কাকলী খাতুনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন।
বকুল শেখ আরও অভিযোগ করেন, ঘটনার পর ফয়সাল সুখী খাতুনের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন নিয়ে যান এবং মোবাইলে ব্যবহৃত সিম কার্ড নষ্ট করে ফেলা হয়। ঘটনার পর থেকেই প্রধান অভিযুক্ত ফয়সাল পলাতক রয়েছেন বলেও তিনি দাবি করেন।
সংবাদ সম্মেলনে সুখী খাতুনের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলার আসামিদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়।
এ বিষয়ে ভেড়ামারা থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) মোহাম্মদ জাহেদুর রহমান জানান, ঘটনার সময় নিহতের বাবা থানায় আত্মহত্যার অভিযোগ দিয়ে অপমৃত্যুর মামলা করেছিলেন। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে প্রতিবেদন জমা দেন। নতুন হত্যা মামলার বিষয়ে থানায় এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক কাগজপত্র পৌঁছায়নি। কাগজপত্র পাওয়ার পর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি জানান।
আপনার মতামত লিখুন :