নতুন সরকারের বাজেট উপস্থাপন ১১ জুন


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : জুন ৭, ২০২৬, ৪:১৯ অপরাহ্ণ
নতুন সরকারের বাজেট উপস্থাপন ১১ জুন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম বাজেট অধিবেশন শুরু হয়েছে। গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার গঠনের পর এটি সংসদের প্রথম বাজেট অধিবেশন। রোববার (৭ জুন) বিকেল ৩টায় জাতীয় সংসদ ভবনে অধিবেশন শুরু হয়। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।

সংসদ সূত্রে জানা গেছে, আগামী ১১ জুন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট উপস্থাপন করবেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। নতুন সরকারের প্রথম বাজেট হওয়ায় রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মহলে এ বাজেট নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। এর আগে সংবিধানের ৭২ অনুচ্ছেদের (১) দফায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে গত ৭ মে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এ অধিবেশন আহ্বান করেন।

সরকার আগামী অর্থবছরের জন্য প্রায় ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট প্রণয়নের পরিকল্পনা করেছে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা মোকাবিলা, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সম্প্রসারণ, ভর্তুকি ব্যয় বৃদ্ধি, ঋণের সুদ পরিশোধ এবং সরকারি কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামোর সুপারিশ আংশিক বাস্তবায়নের কারণে ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে যাচ্ছে।

সরকারের প্রধান লক্ষ্য হিসেবে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেওয়া হলেও অর্থনীতিবিদরা প্রায় ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকার সম্ভাব্য বাজেট ঘাটতিকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন। অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি, বৈদেশিক ঋণ ব্যবস্থাপনা এবং উন্নয়ন ব্যয়ের কার্যকারিতা নিশ্চিত করা আগামী বাজেট বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

উল্লেখ্য, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে অন্তর্বর্তী সরকার ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা করেছিল, যা পরে সংশোধিত হয়ে ৭ লাখ ৮৮ হাজার কোটি টাকায় নেমে আসে। সে সময় উন্নয়ন ব্যয় কমিয়ে ভর্তুকি ও অন্যান্য অনুন্নয়ন খাতে ব্যয় বৃদ্ধি করা হয়েছিল।

সে তুলনায় ২০২৬-২৭ অর্থবছরের সম্ভাব্য বাজেট প্রায় ১৮ শতাংশ বড় হতে যাচ্ছে। অতীতে সাধারণত জাতীয় বাজেটের আকার ১০ থেকে ১৫ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পেলেও এবার তুলনামূলক বেশি প্রবৃদ্ধি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বাজেট অধিবেশনে প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর বিস্তারিত আলোচনা শেষে তা অনুমোদনের জন্য সংসদে উত্থাপন করা হবে। সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা, রাজস্ব নীতি এবং আগামী অর্থবছরের অর্থনৈতিক দিকনির্দেশনা এই বাজেটের মাধ্যমে স্পষ্ট হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।