ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে সরকার


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : জুন ৭, ২০২৬, ৩:৫০ অপরাহ্ণ
ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে সরকার

আসন্ন বর্ষা মৌসুমকে সামনে রেখে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার বিস্তার রোধে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে সরকার। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, স্থানীয় সরকার বিভাগ, সিটি করপোরেশন এবং স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বয়ে দেশব্যাপী প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।

সরকারের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে সচেতনতামূলক র‌্যালি, পরিচ্ছন্নতা অভিযান, কমিউনিটি মিটিং, উঠান বৈঠক এবং জনসচেতনতামূলক বিভিন্ন কর্মসূচি শুরু হয়েছে। পাশাপাশি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে ‘ডেঙ্গু কর্নার’ চালু, চিকিৎসক ও নার্সদের প্রশিক্ষণ, ফিল্ড হাসপাতাল প্রস্তুত, প্রয়োজনীয় রিএজেন্ট ও টেস্টিং কিট সংগ্রহ এবং ওষুধ ও খাবার স্যালাইনের মজুত নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনসহ দেশের সাতটি সিটি করপোরেশনও মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম শুরু করেছে। নিজ নিজ এলাকায় ঝুঁকি নিরূপণ, মশার প্রজননস্থল ধ্বংস এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে পৃথক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

এবার প্রথমবারের মতো নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ‘প্রাক-বর্ষা এডিস মশার লার্ভা জরিপ’ পরিচালনা করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। অন্যদিকে ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনগণকে সচেতন করতে সুর ও সংগীতভিত্তিক ব্যতিক্রমধর্মী প্রচারণা শুরু করেছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন।

স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, ডেঙ্গু মোকাবিলায় সরকার সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে ডেঙ্গু কর্নার স্থাপন এবং চিকিৎসক-নার্সদের বিশেষ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। তিনি জানান, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ক্যাম্পাসে একটি ফিল্ড হাসপাতাল প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং পরিস্থিতির প্রয়োজন হলে আরও ফিল্ড হাসপাতাল চালু করা হবে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, বেসরকারি হাসপাতালগুলোকে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য অন্তত ১০ শতাংশ শয্যা সংরক্ষণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসা ব্যয় কমাতে পরীক্ষার খরচে ছাড় দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। বর্তমানে সরকারের কাছে প্রায় দুই লাখ ব্যাগ খাবার স্যালাইন মজুত রয়েছে বলেও জানান তিনি।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে শনিবার দেশব্যাপী সচেতনতামূলক র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে। একই দিনে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে তিন মাসব্যাপী বিশেষ পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতামূলক অভিযানের উদ্বোধন করা হয়। রাজধানীর রবীন্দ্র সরোবর থেকে শুরু হওয়া এই কর্মসূচি জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও বাস্তবায়িত হচ্ছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে। কোনো বাড়ি, প্রতিষ্ঠান বা স্থাপনায় এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে জনগণ ও সিটি করপোরেশনের সমন্বিত প্রচেষ্টা অপরিহার্য। তিনি জানান, ঝুঁকিপূর্ণ ওয়ার্ডগুলোতে পাঁচদিনব্যাপী বিশেষ ‘ক্র্যাশ প্রোগ্রাম’ চালু করা হয়েছে, যার আওতায় পরিচ্ছন্নতা অভিযান, লার্ভা নিধন, বর্জ্য অপসারণ এবং জনসচেতনতা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম. এ. মুহিত বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধকে সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করতে আগামী তিন মাসব্যাপী বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি জানান, জনগণকে সচেতন করতে প্রতি শুক্রবার জুমার নামাজে ইমামদের মাধ্যমে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা বিষয়ে বার্তা প্রচারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকারের আগাম প্রস্তুতি, সিটি করপোরেশনগুলোর সমন্বিত কার্যক্রম এবং নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গেলে চলতি মৌসুমে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার বিস্তার অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে।