
ফেসবুক, ইউটিউবসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের অর্জিত আয়ের ওপর আর কোনো কর থাকবে না— এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বর্তমানে এ খাতের আয় থেকে ৭ দশমিক ৫০ শতাংশ হারে উৎসে কর কেটে রাখা হয়। তবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় কনটেন্ট ক্রিয়েশন ও ফ্রিল্যান্সিং খাতকে উৎসাহিত করতে এই কর প্রত্যাহারের নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা থাকতে পারে।
সরকারের মতে, ডিজিটাল অর্থনীতি ও তরুণ উদ্যোক্তা তৈরির লক্ষ্যে কনটেন্ট ক্রিয়েশন এবং ফ্রিল্যান্সিং খাতকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিএনপির সর্বশেষ নির্বাচনি ইশতেহারেও তথ্যপ্রযুক্তি খাতের উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছিল। সেখানে সাইবার নিরাপত্তা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং অন্যান্য আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর খাতে ২ লাখ এবং ফ্রিল্যান্সিং ও কনটেন্ট ক্রিয়েশন খাতে আরও ৮ লাখ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়।
ইশতেহারে জাতীয় সাইবার নিরাপত্তাকেন্দ্র স্থাপন, ই-ওয়ালেট চালু, তথ্যপ্রযুক্তি খাতে ১০ বছরের বিশেষ কর সুবিধা, উদ্যোক্তাদের জন্য ভর্তুকিযুক্ত ঋণ এবং স্টার্টআপ তহবিল গঠনের প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছিল।
ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে শিক্ষামূলক, তথ্যভিত্তিক বা বিনোদনধর্মী ভিডিও, অডিও ও অন্যান্য কনটেন্ট তৈরি করে যারা আয় করেন, তারা সাধারণত কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে পরিচিত। তাদের আয় মূলত ইউটিউব অ্যাডসেন্স, ফেসবুক মনিটাইজেশন, স্পনসরশিপ এবং ব্র্যান্ড প্রচারণা থেকে আসে। এতদিন বিদেশ থেকে আসা এই আয় ব্যাংক হিসাবে জমা হওয়ার সময় স্বয়ংক্রিয়ভাবে ৭ দশমিক ৫০ শতাংশ কর কেটে রাখা হতো।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সরকারের লক্ষ্য তরুণদের স্বনির্ভর করে তোলা এবং ডিজিটাল অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করা। সে কারণেই কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও ফ্রিল্যান্সারদের জন্য কর ছাড়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, ২০২৩ সালের আয়কর আইনে কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের আলাদা সংজ্ঞা না থাকলেও মূলত ব্যক্তি পর্যায়ের ফ্রিল্যান্সার ও ক্ষুদ্র আয়ের ডিজিটাল উদ্যোক্তারাই এই সুবিধার আওতায় আসবেন। তবে বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠান বা মিডিয়া হাউস পরিচালিত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের আয়ের ক্ষেত্রে কর সুবিধা সীমিত থাকতে পারে।
এদিকে সরকারের নির্দেশনার পর দেশের অন্যতম বেসরকারি ব্যাংক ডাচ-বাংলা ব্যাংক লিমিটেড ফ্রিল্যান্সিং আয়ের ওপর উৎসে কর কর্তন স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছে। গত ৫ জুন ব্যাংকটির প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সম্প্রতি যেসব গ্রাহকের অ্যাকাউন্ট থেকে কর কেটে নেওয়া হয়েছে, তা দ্রুত ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কর প্রত্যাহারের ফলে কনটেন্ট ক্রিয়েশন ও ফ্রিল্যান্সিং খাতে নতুন উদ্যোক্তা তৈরি হবে, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন বাড়বে এবং দেশের ডিজিটাল অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে।
উল্লেখ্য, সাধারণ মানুষের ওপর করের চাপ কমাতে সম্প্রতি সরকার বেশ কয়েকটি কর নীতিতে পরিবর্তন এনেছে। এর মধ্যে নিত্যপণ্যের ওপর বাড়তি উৎস কর প্রত্যাহার, মোটরসাইকেল ও অটোরিকশা সংক্রান্ত কর বাতিল, সম্পদ কর ও উত্তরাধিকার কর আরোপের উদ্যোগ থেকে সরে আসা, রপ্তানি প্রণোদনার ওপর করের হার কমানো এবং আবগারি শুল্কের সীমা ৩ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫ লাখ টাকা নির্ধারণের সিদ্ধান্ত উল্লেখযোগ্য।
আপনার মতামত লিখুন :