আবারও হাইকোর্টে জয়া আহসান, রুল জারি


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : জুন ৭, ২০২৬, ৪:২৫ অপরাহ্ণ
আবারও হাইকোর্টে জয়া আহসান, রুল জারি

হাতির ওপর নির্যাতন বন্ধে আইনি লড়াইয়ের পর এবার ঘোড়ার মাংসের অবৈধ বাণিজ্য বন্ধে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন অভিনেত্রী জয়া আহসান। তার দায়ের করা রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে ঘোড়ার মাংস মানুষের খাদ্য হিসেবে ব্যবহারের বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ কেন গ্রহণ করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।

একইসঙ্গে ঘোড়ার মাংসের বাণিজ্যিক ব্যবহার, জবাই, বাজারজাতকরণ এবং সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে আগামী ৯০ দিনের মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ নীতিমালা বা গাইডলাইন প্রণয়নের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। রোববার (৭ জুন) জয়া আহসানের দায়ের করা রিট আবেদনের শুনানি শেষে হাইকোর্ট এ আদেশ দেন।

গত ১১ মে দায়ের করা ওই রিটে অসুস্থ ও অনুপযুক্ত প্রাণীর মাংস মানুষের খাদ্য হিসেবে প্রতারণামূলকভাবে বাজারজাত করার অভিযোগ তুলে আদালতের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়। আবেদনে উল্লেখ করা হয়, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পূর্বে অভিযোগ জানানো হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে জনস্বার্থে আদালতের শরণাপন্ন হতে বাধ্য হয়েছেন আবেদনকারীরা।

রিটে গাজীপুরে উন্মোচিত অবৈধ ঘোড়ার মাংস বাণিজ্যের বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ ও সময়সীমাবদ্ধ তদন্তের নির্দেশনা, সংশ্লিষ্ট অভিযোগগুলোর নিষ্পত্তি এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জানানো হয়। পাশাপাশি তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিলের নির্দেশ চাওয়া হয়েছে।

এছাড়া জাতীয় পর্যায়ে ঘোড়া জবাই ও মাংস বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণে ৬০ দিনের মধ্যে নির্দেশিকা ও কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন, বাজেয়াপ্ত ও অসুস্থ ঘোড়ার নিলাম বন্ধ এবং উদ্ধারকৃত প্রাণীর চিকিৎসা, পরিচর্যা ও পুনর্বাসনের জন্য উপযুক্ত আশ্রয়কেন্দ্র বা অভয়ারণ্য প্রতিষ্ঠার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। আবেদনকারীদের মতে, দ্রুত বিচারিক হস্তক্ষেপ ছাড়া এ ধরনের অবৈধ কার্যক্রম জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে এবং প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুরতা অব্যাহত থাকার আশঙ্কা রয়েছে।

উল্লেখ্য, প্রাণী কল্যাণ বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন জয়া আহসান। এর আগে ২০২৪ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি তিনি প্রাণী অধিকার সংগঠন People for Animal Welfare Foundation-এর সঙ্গে যৌথভাবে হাইকোর্টে একটি রিট দায়ের করেন। ওই রিটে সার্কাস, পর্যটন, বিয়ের অনুষ্ঠান, রাজনৈতিক শোভাযাত্রা ও বাণিজ্যিক প্রচারণাসহ বিভিন্ন কাজে হাতির ব্যবহার এবং এসব কাজে বাধ্য করতে হাতির ওপর নির্যাতন বন্ধের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছিল।

প্রাণী অধিকারকর্মীদের মতে, প্রাণী কল্যাণ ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় আদালতের সাম্প্রতিক এই নির্দেশনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।