আত্রাইয়ে কাঁঠালের উৎসব: গাছে গাছে লালিমা ও পুষ্টির সমারোহ


আত্রাই উপজেলা প্রতিনিধি, ​আব্দুল মজিদ মল্লিক  প্রকাশের সময় : জুন ৬, ২০২৬, ৩:৫১ অপরাহ্ণ
আত্রাইয়ে কাঁঠালের উৎসব: গাছে গাছে লালিমা ও পুষ্টির সমারোহ

নওগাঁ জেলার আত্রাই উপজেলা বরাবরের মতোই ফল এবং শস্য উৎপাদনে সমাদৃত। তবে এবার এই অঞ্চল শুধু আমের জন্য নয়, বরং কাঁঠালের সমারোহের জন্যও নজর কাড়ছে। চলতি জ্যৈষ্ঠ মাসে খরতাপের মধ্যে উপজেলার প্রতিটি গাছে এখন ঝুলছে রসালো কাঁঠালের ছোট-বড় ফল। পূর্ণাঙ্গ পাকা কাঁঠাল বাজারে আসতে এখনও কয়েক দিন বাকি থাকলেও, গাছে গাছে ঝুলন্ত এই ফলের দৃশ্য ইতিমধ্যেই স্থানীয়দের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে।

প্রবাদ আছে, ‘গাছে কাঁঠাল গোঁফে তেল’। আত্রাইয়ে এই প্রবাদ যেন বাস্তবে রূপ নিয়েছে। গ্রামের বাড়ির আঙিনা, রাস্তার ধারে কিংবা ঝোপঝাড়ের ভেতরের কাঁঠাল গাছগুলোতে ফলের সমারোহ। অনেক গাছের গোঁড়া থেকে শুরু করে মগডাল পর্যন্ত ঝুলছে নানা আকারের কাঁঠাল। যদিও উপজেলার অর্থনীতি মূলত আম চাষের উপর নির্ভরশীল, স্থানীয় আঙিনা এবং পতিত জমির কাঁঠাল এখন গ্রামীণ অর্থনীতি ও পুষ্টির চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

কাঁঠাল শুধু ফল হিসেবে নয়, রান্নার এক অপরিহার্য উপাদান। কাঁঠালের বিচি দিয়ে তৈরি শুঁটকি ভর্তা বা বিভিন্ন সবজির সঙ্গে রান্না এই অঞ্চলের মানুষের কাছে অত্যন্ত প্রিয়। এছাড়া কাঁঠালের ছাল এবং পাতা গবাদিপশুর পুষ্টিকর খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়, আর শক্ত কাঠ দিয়ে তৈরি আসবাবপত্রও স্থানীয়ভাবে সমাদৃত।

উপজেলার প্রবীণরা জানান, কাঁঠালের কোনো অংশই অপচয় হয় না। কাঁচা কাঁঠাল সবজি হিসেবে ব্যবহৃত হয়, আর পাকা কাঁঠাল প্রতিটি পরিবারের তৃপ্তির উৎস। স্থানীয় হাট-বাজারে এখনও পুরোপুরি বিক্রি শুরু হয়নি, তবে জ্যৈষ্ঠের শেষ ও আষাঢ়ের শুরু থেকে কাঁঠালের ব্যবসা জেলাজুড়ে জমে উঠবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সর্বাধিক কাঁঠাল উৎসবের আমেজ লক্ষ্য করা যাচ্ছে ভবানীপুর, বান্দাইখাড়া এবং আহসানগঞ্জ এলাকায়। আত্রাই উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা প্রফেসর প্রসেনজিৎ তালুকদার জানিয়েছেন, বাণিজ্যিকভাবে চাষ না থাকলেও মানুষের মধ্যে কাঁঠালের চারা রোপণের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে। চলতি বছর ফলন ভাল হওয়ায় স্থানীয়দের পুষ্টি চাহিদা মিটবে এবং অর্থনৈতিকভাবে সহায়ক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।