হেলথ কার্ড নিয়ে সুখবর, প্রথম ধাপে পাবেন যারা


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : জুন ৪, ২০২৬, ১১:৩৮ পূর্বাহ্ণ
হেলথ কার্ড নিয়ে সুখবর, প্রথম ধাপে পাবেন যারা

ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের পর এবার দেশের সব নাগরিকের জন্য ‘হেলথ কার্ড’ চালু করতে যাচ্ছে সরকার। আগামী জুলাই মাস থেকে প্রথম ধাপে বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, খুলনা, নরসিংদী ও নোয়াখালী জেলায় এ কার্যক্রম শুরু হবে। পর্যায়ক্রমে দেশের সব জেলায় এ সুবিধা সম্প্রসারণ করা হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হেলথ কার্ড চালুর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। সরকার গঠনের পর সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কার্যক্রম শুরু হয়েছে। নতুন এই ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রতিটি নাগরিকের চিকিৎসা-সংক্রান্ত তথ্য একটি কার্ডে সংরক্ষিত থাকবে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, “হেলথ কার্ড আমাদের নির্বাচনী ইশতেহারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গীকার ছিল। প্রধানমন্ত্রী নিজে এ প্রকল্পের অগ্রগতি তদারকি করছেন। জনগণের স্বাস্থ্যসেবা আরও সহজ ও কার্যকর করতে দ্রুত গতিতে কাজ এগিয়ে চলছে।”

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ই-হেলথ কার্ডে প্রতিটি নাগরিকের জন্য একটি ইউনিক আইডি থাকবে। রোগীর চিকিৎসার ইতিহাস, রোগ নির্ণয়, পরীক্ষা-নিরীক্ষার তথ্য এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় মেডিকেল রেকর্ড ডিজিটালভাবে সংরক্ষিত হবে। হাসপাতাল বা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে কার্ড ব্যবহার করলেই সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক রোগীর পূর্ববর্তী স্বাস্থ্য তথ্য জানতে পারবেন।

প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ডা. জিয়াউদ্দিন হায়দার জানান, হেলথ কার্ডধারীরা সরকারি ও নির্ধারিত হাসপাতালগুলোতে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষায় বিশেষ ছাড় পাবেন। এছাড়া বছরে একবার বিনামূল্যে মৌলিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা করার সুযোগ থাকবে।

তিনি বলেন, “চিকিৎসা নিতে গিয়ে রোগীদের সবচেয়ে বেশি ভোগান্তি হয় বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার খরচ নিয়ে। আমরা এমন একটি ব্যবস্থা করতে চাই, যাতে প্রয়োজনীয় মৌলিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা বিনামূল্যে বা স্বল্প খরচে করা যায়। এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবাকে মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।”

তবে উদ্যোগটিকে স্বাগত জানালেও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মুশতাক হোসেন সতর্কতার সঙ্গে বাস্তবায়নের পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি বলেন, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া ও ভারতের ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে কার্যকর মডেল অনুসরণ করতে হবে। একই সঙ্গে প্রত্যন্ত অঞ্চলে হেলথ কার্ডের সুফল পৌঁছে দিতে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা ও হাসপাতালগুলোকে আরও প্রস্তুত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।