সংসদের মর্যাদা নির্ভর করে জনগণের আস্থার উপর: স্পিকার


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : জুন ৪, ২০২৬, ৭:২৩ অপরাহ্ণ
সংসদের মর্যাদা নির্ভর করে জনগণের আস্থার উপর: স্পিকার

জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম বলেছেন, সংসদের মর্যাদা কেবল তার সাংবিধানিক ক্ষমতার ওপর নির্ভর করে না, এটি নির্ভর করে জনগণের আস্থার ওপর। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের শপথ কক্ষে সংসদ সদস্যদের জন্য আয়োজিত ‘সংবিধান, কার্যপ্রণালি-বিধি ও সংসদীয় কার্যক্রম’ শীর্ষক ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রামে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

স্পিকার বলেন, সংসদ পরিচালিত হয় সংবিধান ও প্রাসঙ্গিক আইনগত কাঠামোর মাধ্যমে। কার্যপ্রণালি-বিধি সম্পর্কে সুস্পষ্ট জ্ঞান সংসদ সদস্যদের দায়িত্ব পালনকে আরও কার্যকর করে তোলে। তিনি বলেন, কার্যপ্রণালি-বিধি কেবল প্রশাসনিক আনুষ্ঠানিকতা নয়, এটি সংসদ সদস্যদের দায়িত্ব বাস্তবায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার। তিনি আরও বলেন, আইন প্রণয়ন, সরকারের কার্যক্রম তদারকি এবং নির্বাহী বিভাগের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা—এই তিনটি প্রধান দায়িত্ব সংসদের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হয়। এসব কাজে কার্যপ্রণালি-বিধির সঠিক প্রয়োগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, সংসদ শুধু রাজনৈতিক ঐকমত্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত নয়, বরং সরকারি ও বিরোধী দলের সক্রিয় ও গঠনমূলক অংশগ্রহণের মাধ্যমেই এটি কার্যকরভাবে পরিচালিত হয়। এতে জনসম্পৃক্ততা ও আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়া আরও শক্তিশালী হয়। তিনি আরও জানান, সংসদীয় প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করতে ইউএনডিপি এবং সুইজারল্যান্ড দূতাবাসের ‘স্ট্রেনদেনিং ইনস্টিটিউশনস, পলিটিক্স অ্যান্ড সার্ভিসেস’ কর্মসূচি সংসদ সদস্যদের কার্যকর অংশগ্রহণ ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে ভূমিকা রাখছে।

অনুষ্ঠানে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল সভাপতিত্ব করেন। স্বাগত বক্তব্য দেন জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভুঁইয়া। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম মণি এবং বিরোধী দলের নেতা ডা. মো. শফিকুর রহমান।

চিফ হুইপ বলেন, শেখার কোনো শেষ নেই—দোলনা থেকে মৃত্যু পর্যন্ত মানুষ শেখে। তিনি সংসদ সদস্যদের পারস্পরিক অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে শেখার আহ্বান জানান এবং সংসদকে আরও কার্যকর, জবাবদিহিমূলক ও গণমুখী করার ওপর গুরুত্ব দেন।

বিরোধী দলের নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জনগণের করের টাকায় সংসদ পরিচালিত হয়। তাই সুশাসন, অর্থনৈতিক সংস্কার এবং টেকসই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় সংসদের ভূমিকা আরও জোরদার করতে হবে। দুই দিনব্যাপী এই ওরিয়েন্টেশন কর্মসূচিতে দেশের বিভিন্ন আসনের নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা অংশ নেন।