শত্রুর চক্রান্ত ব্যর্থ করতে জাতীয় ঐক্যের আহ্বান মোজতবা খামেনির


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : জুন ৪, ২০২৬, ৭:৫৫ অপরাহ্ণ
শত্রুর চক্রান্ত ব্যর্থ করতে জাতীয় ঐক্যের আহ্বান মোজতবা খামেনির

ইরানের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে বিদেশি শক্তির কথিত চক্রান্ত ও প্রচেষ্টা প্রতিহত করতে জাতীয় ঐক্য বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির বর্তমান সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা মোজতবা খামেনি। তিনি সমগ্র ইরানি জাতিকে যেকোনো মূল্যে ঐক্য রক্ষা এবং অভ্যন্তরীণ বিভাজন পরিহারের আহ্বান জানান।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দেশবাসীর উদ্দেশে দেওয়া এক বিশেষ বার্তায় তিনি এই আহ্বান জানান। বার্তাটি সাবেক সর্বোচ্চ নেতা রুহুল্লাহ খোমেনির ৩৭তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রদান করা হয়। এতে তিনি জনগণ ও রাষ্ট্রীয় কর্মকর্তাদের মধ্যে সংহতি ও সমন্বয় বজায় রাখার গুরুত্বের ওপর বিশেষভাবে জোর দেন।

আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা মেহেরের বরাতে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আনাদোলুর প্রতিবেদনে বলা হয়, মোজতবা খামেনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের নাম সরাসরি উল্লেখ না করে অভিযোগ করেন যে ইরানের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে একটি “হাইব্রিড যুদ্ধ” চালানো হচ্ছে। তার ভাষায়, শত্রুপক্ষ সামরিকভাবে সফল না হয়ে এখন মনস্তাত্ত্বিক কৌশল ও বিভাজন সৃষ্টি করে ইরানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি দুর্বল করার চেষ্টা করছে।

তিনি আরও বলেন, শত্রুর এই ধরনের পরিকল্পনা ব্যর্থ করতে হলে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও সাধারণ জনগণের মধ্যে ঐক্য বজায় রাখা অপরিহার্য। অভ্যন্তরীণ বিভেদ সৃষ্টি হলে দেশ দুর্বল হয়ে পড়বে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

এদিকে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। এপ্রিলের শুরুতে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সবচেয়ে তীব্র সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে চলতি সপ্তাহে। অভিযোগ রয়েছে, ইরান ওই সময় মার্কিন সামরিক স্থাপনা এবং কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়, যাতে একজন নিহত হন।

এর আগে ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে বিমান হামলা চালালে কয়েক হাজার মানুষের প্রাণহানির ঘটনা ঘটে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এরপর থেকে পাল্টাপাল্টি হামলা ও আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়। পরিস্থিতি আরও জটিল হয় হরমুজ প্রণালি সংক্রান্ত অস্থিরতার কারণে, যা বৈশ্বিক নৌপথের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ৮ এপ্রিল একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয় এবং এরপর থেকে স্থায়ী সমঝোতার চেষ্টা চলছে বলে জানা গেছে।