রামিসা হত্যা মামলায় যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : জুন ৪, ২০২৬, ১২:৩৫ অপরাহ্ণ
রামিসা হত্যা মামলায় যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু

রাজধানীর পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় দায়ের করা বহুল আলোচিত মামলায় আদালতে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু হয়েছে। বিচারিক কার্যক্রমের চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছানো এ মামলার রায় যেকোনো দিন ঘোষণা করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দুপুর পৌনে ১২টার দিকে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মহানগর আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী।

এর আগে সকাল ৯টার দিকে প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে কারাগার থেকে আদালতে আনা হয়। পরে নির্ধারিত সময়ে তাদের ট্রাইব্যুনালের এজলাসে হাজির করা হয়। মামলাটিকে কেন্দ্র করে আদালত প্রাঙ্গণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয় এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়।

বুধবার আত্মপক্ষ সমর্থন ও সাফাই সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য এ দিন ধার্য করেন। আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানিতে বিচারক মামলার গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্য, ভিডিও ফুটেজ ও আলামত আসামিদের সামনে উপস্থাপন করেন। সেখানে শিশুটিকে খোঁজার ঘটনা, সন্দেহভাজন ফ্ল্যাট শনাক্ত, রক্তের নমুনা উদ্ধার এবং মরদেহ উদ্ধারের বিষয়গুলো উঠে আসে। একই সঙ্গে অভিযোগ অনুযায়ী স্বপ্না আক্তার কীভাবে সোহেল রানাকে পালাতে সহায়তা করেছিলেন, সে বিষয়ও আদালতে আলোচিত হয়।

শুনানিতে সোহেল রানা নিজেকে নির্দোষ দাবি করলেও একপর্যায়ে আদালতের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। তিনি বলেন, “আমি অপরাধ করেছি, আমাকে মাফ করে দিন।” একই সঙ্গে ‘ডলার’ নামে একজনের কথাও উল্লেখ করেন। তবে রাষ্ট্রপক্ষের দাবি, তদন্ত, সাক্ষ্যপ্রমাণ কিংবা তার আগের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে এমন কোনো ব্যক্তির নাম উঠে আসেনি।

রাষ্ট্রপক্ষের বিশেষ পিপি অ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান দুলু বলেন, সোহেল রানার বক্তব্য আদালতের নথিভুক্ত করার আবেদন জানানো হয়েছে। অন্যদিকে পিপি ওমর ফারুক ফারুকী বলেন, মামলায় উপস্থাপিত সাক্ষ্য-প্রমাণ ও আইনি প্রক্রিয়ার ভিত্তিতে একটি দৃষ্টান্তমূলক রায় হবে বলে তারা আশা করছেন।

উল্লেখ্য, গত ১৯ মে পল্লবীর একটি বাসা থেকে রামিসা আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরদিন তার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন। পরে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে আটক করা হয়। তদন্ত শেষে ডিএনএ, ময়নাতদন্ত ও ফরেনসিক আলামতের ভিত্তিতে গত ২৪ মে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। মামলায় সোহেল রানার বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও হত্যার এবং স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অপরাধে সহযোগিতার অভিযোগ আনা হয়েছে।