প্রধানমন্ত্রীর টেলিফোনের তার চুরির ঘটনায় গ্রেপ্তার ২


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : জুন ৪, ২০২৬, ৫:৩৮ অপরাহ্ণ
প্রধানমন্ত্রীর টেলিফোনের তার চুরির ঘটনায় গ্রেপ্তার ২

বাংলাদেশ সচিবালয়ে অবস্থিত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের লাল টেলিফোন সংযোগের তামার তার চুরির ঘটনায় দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট। এ সময় চুরি হওয়া তামার তারও উদ্ধার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) ঢাকা মহানগর পুলিশের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান সিটিটিসির কর্মকর্তারা। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন রঞ্জন চন্দ্র (২৫) ও রেজাকুল ইসলাম (৩২)। পুলিশ জানিয়েছে, চুরি হওয়া তামার তার প্রতি কেজি ৬০০ টাকা দরে বিক্রি করা হয়েছিল। মোট ৮ কেজি ২০০ গ্রাম তামার তার বিক্রি করে দেওয়া হয় একটি ভাঙারির দোকানে।

সিটিটিসি সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের লাল টেলিফোন সংযোগের তার চুরির ঘটনা প্রকাশ্যে এলে বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। এ ঘটনায় বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন কোম্পানি লিমিটেড (বিটিসিএল) কর্তৃপক্ষ শাহবাগ থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে।

ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় সিটিটিসির সিটি ইন্টেলিজেন্স অ্যানালাইসিস বিভাগ ছায়া তদন্ত শুরু করে। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য ও গোপন সূত্রের ভিত্তিতে সচিবালয়ের আউটসোর্সিং কর্মী রঞ্জন চন্দ্রকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া হয়।

জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে রঞ্জন স্বীকার করেন, গত ২২ মে সচিবালয়ের ৩ নম্বর ভবন থেকে তিনি ওই তার চুরি করেন। পরে গত ১ জুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একুশে হলের সামনে একটি ভাঙারির দোকানে সেগুলো বিক্রি করে দেন।

রঞ্জনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ভাঙারি ব্যবসায়ী রেজাকুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেখানো মতে চকবাজার এলাকার হোসেনী দালান রোডের একটি গুদাম থেকে চুরি হওয়া তামার তার উদ্ধার করে পুলিশ।

প্রাথমিক তদন্তে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারণা, সচিবালয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সংযোগের তার চুরির পেছনে একটি সংঘবদ্ধ চক্র সক্রিয় রয়েছে। চক্রটির অন্যান্য সদস্য এবং মূল হোতাদের শনাক্ত করতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে সিটিটিসি।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ কর্মকর্তারা বলেন, রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কোনো ধরনের অবহেলা বরদাশত করা হবে না। ঘটনার সঙ্গে জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে।