পাকিস্তানি শাসকদের সীমাহীন নির্যাতন কখনোই ক্ষমা করতে পারি না: মির্জা ফখরুল


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : জুন ৪, ২০২৬, ৪:০২ অপরাহ্ণ
পাকিস্তানি শাসকদের সীমাহীন নির্যাতন কখনোই ক্ষমা করতে পারি না: মির্জা ফখরুল

১৯৭১ সালের আগে পাকিস্তানি শাসকদের সীমাহীন বৈষম্য, শোষণ ও নির্যাতনকে কখনোই ক্ষমা করা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) রাজধানীর পিআইবি অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ‘বর্তমান প্রেক্ষাপটে জিয়াউর রহমানের স্বাধীন ও নিরপেক্ষ কূটনীতি’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও সংবাদপত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, মুক্তিযুদ্ধ বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি অনন্য ঘটনা। ১৯৭১-পূর্ব পাকিস্তানি শাসকদের বৈষম্য ও নির্যাতনের ইতিহাসের সঙ্গে অন্য কোনো ঘটনার তুলনা করা যায় না। তিনি বলেন, সেই সময় বাঙালি জাতি দীর্ঘদিন ধরে শোষণ ও বঞ্চনার শিকার হয়েছিল। স্বাধীনতার ঘোষণার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের মার্চে যখন দেশ অনিশ্চয়তার মধ্যে ছিল, তখন নিজের জীবন বাজি রেখে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দেন এবং মুক্তিযুদ্ধের জন্য জাতিকে সংগঠিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, শৈশব থেকেই তিনি পাকিস্তানি শাসকদের বৈষম্য ও বাঙালিদের ওপর নিপীড়ন প্রত্যক্ষ করেছেন। স্বাধীনতার পর জনগণ যে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের প্রত্যাশা করেছিল, তা পূরণ হয়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি। জিয়াউর রহমানের রাষ্ট্র পরিচালনার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, তিনি দায়িত্ব গ্রহণের সময় দেশ নানা সংকট ও অস্থিরতার মধ্যে ছিল। কিন্তু জাতীয় ঐক্যের ভিত্তিতে দেশ পুনর্গঠনের উদ্যোগ নিয়ে অল্প সময়ের মধ্যেই বাংলাদেশকে একটি স্বতন্ত্র পরিচয় ও আত্মমর্যাদার অবস্থানে নিয়ে যেতে সক্ষম হন।

তিনি বলেন, শহীদ জিয়া বাংলাদেশকে কোনো দেশের প্রতিদ্বন্দ্বী বা নির্ভরশীল রাষ্ট্র হিসেবে নয়, বরং নিজস্ব শক্তি ও জনগণের সক্ষমতার ওপর দাঁড় করাতে চেয়েছিলেন। এ কারণেই তিনি সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন। বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপি শহীদ জিয়ার আদর্শ অনুসরণ করেই দেশকে এগিয়ে নিতে চায়। তিনি দাবি করেন, সাম্প্রতিক নির্বাচনের আগে বিভিন্ন মাধ্যমে বিএনপির বিরুদ্ধে পরিকল্পিত প্রচারণা চালানো হলেও শেষ পর্যন্ত জনগণ বিএনপির পক্ষেই রায় দিয়েছে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। পিআইবির মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন অর্থনীতিবিদ ড. মুশতাক খান, এএনএম মুনিরুজ্জামান, সিনিয়র সাংবাদিক আবু রূশদ এবং ব্রেইনের নির্বাহী পরিচালক ড. সফিকুর রহমান। অনুষ্ঠানে বক্তারা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক দর্শন, স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি এবং বাংলাদেশের রাষ্ট্রগঠনে তার অবদান নিয়ে আলোচনা করেন।