জামায়াতের বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : জুন ৪, ২০২৬, ১২:১৮ অপরাহ্ণ
জামায়াতের বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক

বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে এবং বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহারের দাবিতে ঢাকাসহ দেশের সব মহানগরে বিক্ষোভ কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। একই সঙ্গে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবিও জানিয়েছে দলটি।

বুধবার (৩ জুন) দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়। বিবৃতিতে জামায়াতের পক্ষ থেকে বলা হয়, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম গড়ে ১৬ দশমিক ৬৮ শতাংশ এবং পাইকারি পর্যায়ে ১৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ বৃদ্ধির যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা জনস্বার্থবিরোধী এবং গণবিরোধী।

মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেন, আসন্ন জাতীয় বাজেটকে সামনে রেখে তড়িঘড়ি করে বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তার ভাষায়, এমনিতেই নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে উঠেছে। এর মধ্যে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো সাধারণ মানুষের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করবে।

তিনি বলেন, বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির ফলে শিল্প, কৃষি এবং ব্যবসা-বাণিজ্যে উৎপাদন ব্যয় বাড়বে। এর প্রভাব পড়ে চাল, ডাল, তেলসহ দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। ফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বেড়ে যাবে এবং অর্থনৈতিক সংকট তীব্রতর হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বিদ্যুৎ খাতে দুর্নীতি, অপচয় এবং ক্যাপাসিটি চার্জের নামে হাজার হাজার কোটি টাকা অপচয়ের অভিযোগও তোলেন। তিনি দাবি করেন, এসব অনিয়ম ও দুর্নীতির দায়ভার জনগণের ওপর চাপিয়ে দিতে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়েছে।

বিবৃতিতে বিদ্যুৎ খাতে দুর্নীতি, অপচয় ও লুটপাট বন্ধের আহ্বান জানিয়ে অবিলম্বে মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি জনগণের দুর্ভোগ বিবেচনায় সরকারকে জনবান্ধব নীতি গ্রহণের আহ্বানও জানানো হয়।

ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বিকেল ৫টায় রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের উত্তর গেটে ঢাকা মহানগর জামায়াতের উদ্যোগে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। একই সময়ে দেশের অন্যান্য মহানগরেও অনুরূপ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছে দলটি।জামায়াত নেতারা আশা করছেন, এই কর্মসূচির মাধ্যমে বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে জনমত গড়ে উঠবে এবং সরকার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনায় বাধ্য হবে।