লেবাননে মর্টার হামলায় জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী নিহত


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : জুন ৪, ২০২৬, ৪:৫৪ অপরাহ্ণ
লেবাননে মর্টার হামলায় জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী নিহত

দক্ষিণ লেবাননের মারজায়ুন এলাকায় মর্টার হামলায় জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনীর (ইউনিফিল) এক সদস্য নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও দুই শান্তিরক্ষী আহত হয়েছেন। বুধবার (৩ জুন) রাতে সংঘটিত এ হামলার বিষয়টি বৃহস্পতিবার (৪ জুন) এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে ইউনিফিল।

ইউনিফিল জানায়, মর্টার হামলায় গুরুতর আহত ওই শান্তিরক্ষীকে দ্রুত বৈরুতের একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। তবে নিহত শান্তিরক্ষীর পরিচয় বা জাতীয়তা প্রকাশ করা হয়নি। একই সঙ্গে হামলার জন্য কোন পক্ষ দায়ী, সে বিষয়েও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।

ঘটনার পরপরই হামলার প্রকৃত কারণ ও পরিস্থিতি জানতে তদন্ত শুরু করেছে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন। ইউনিফিলের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দক্ষিণ লেবাননে ক্রমবর্ধমান সহিংসতা উদ্বেগজনক। বিভিন্ন স্থানে গোলাবর্ষণ ও সামরিক তৎপরতার প্রভাব শনাক্ত করা গেছে। আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও বিশ্বশান্তির স্বার্থে দ্রুত সহিংসতা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

এদিকে ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকরের বিষয়ে আলোচনা চললেও সীমান্ত এলাকায় সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে। স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় বৃহস্পতিবারও ইসরায়েলি বিমান ও স্থল হামলা চালানো হয়েছে। অন্যদিকে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ দাবি করেছে, তারা ইসরায়েলি সেনাদের লক্ষ্য করে একাধিক রকেট হামলা চালিয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, টাইর শহরের দক্ষিণে জেফতা রোড এলাকায় একটি গাড়িকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হলে একই পরিবারের তিন সদস্য গুরুতর আহত হন। এছাড়া নাবাতিয়েহ জেলার একটি গুরুত্বপূর্ণ গোলচত্বরে হামলার ঘটনায় কয়েকজন বেসামরিক নাগরিক আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তির বিষয়ে সমঝোতা হয়। চুক্তিতে দক্ষিণ লেবানন থেকে হিজবুল্লাহ সদস্যদের অপসারণ এবং নির্দিষ্ট এলাকায় শুধুমাত্র লেবানিজ সশস্ত্র বাহিনীর উপস্থিতি নিশ্চিত করার শর্ত রাখা হয়েছে। তবে বিশ্লেষকদের ধারণা, বিদ্যমান উত্তেজনার কারণে এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা কঠিন হতে পারে।

অন্যদিকে ইসরায়েল জানিয়েছে, নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত তারা সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখবে। একই সময়ে হিজবুল্লাহও ইসরায়েলি উপস্থিতির বিরুদ্ধে তাদের প্রতিরোধ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। ফলে যুদ্ধবিরতির উদ্যোগের মধ্যেও দক্ষিণ লেবাননে সংঘাত ও অনিশ্চয়তা আরও গভীর হচ্ছে।