
কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার কুষ্টিয়া-মেহেরপুর মহাসড়কের পাশে গড়ে উঠেছে ময়লা ফেলার একটি ভাগাড়, যা জনস্বাস্থ্য ও সড়ক নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি সৃষ্টি করছে। প্রতিদিন নানা ধরনের বর্জ্য ফেলা হচ্ছে, সম্প্রতি সেখানে মৃত পশুও ফেলে রাখা হচ্ছে। এতে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে এবং আশপাশের মানুষ, পথচারী ও যাত্রীদের দুর্ভোগ বেড়েছে।
পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে, মৃত পশু ও পচা বর্জ্য থেকে ব্যাকটেরিয়া ও জীবাণু ছড়িয়ে পড়ে। মাছি, মশা, কুকুর ও শেয়াল এই এলাকায় ভিড় জমায়, যা রাতের অন্ধকারে মহাসড়কে দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। এছাড়া দীর্ঘমেয়াদি দূষিত পরিবেশ শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থদের জন্য শ্বাসকষ্ট ও অন্যান্য রোগের ঝুঁকি বাড়ায়।
স্থানীয়রা বলছেন, এমন অবস্থা এলাকার সৌন্দর্য ও ভাবমূর্তিকেও নষ্ট করছে। মহাসড়কের পাশে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ একটি নেতিবাচক ধারণা তৈরি করে।
বিশেষজ্ঞরা ময়লা সমস্যার সমাধান হিসেবে সুপারিশ করেছেন: মহাসড়ক ও জনবসতি থেকে দূরে পরিকল্পিত ডাম্পিং জোন তৈরি। মৃত পশু দ্রুত অপসারণ ও সঠিকভাবে দাফনের ব্যবস্থা। প্রশাসন ও পরিবেশ সংস্থার নিয়মিত নজরদারি। জনগণকেও সচেতন করা, কারণ পরিবেশ রক্ষা কেবল সরকারের দায়িত্ব নয়, নাগরিকেরও দায়িত্ব।
বিশ্বের অনেক দেশে আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা যেমন রিসাইক্লিং, বায়োগ্যাস বা কম্পোস্ট সার তৈরির মাধ্যমে আবর্জনাকে সম্পদে রূপান্তর করা হচ্ছে। স্থানীয় পর্যায়ে এই ধরনের উদ্যোগ নিলে পরিবেশ রক্ষা ছাড়াও অর্থনৈতিক সুবিধা পাওয়া সম্ভব।
মিরপুরের হাইওয়ের পাশে এই ভাগাড় শুধু স্থানীয় সমস্যা নয়, এটি সতর্কবার্তা। সময়মতো কার্যকর পদক্ষেপ এবং জনগণের সচেতনতার মাধ্যমে কেবল পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও মানবিক পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব।
আপনার মতামত লিখুন :