বিশ্বকাপের প্রায় সব ম্যাচেই অতিরিক্ত তাপমাত্রার প্রভাব পড়তে পারে


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : জুন ৪, ২০২৬, ৪:২১ অপরাহ্ণ
বিশ্বকাপের প্রায় সব ম্যাচেই অতিরিক্ত তাপমাত্রার প্রভাব পড়তে পারে

গবেষণা অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় অনুষ্ঠিতব্য ২০২৬ বিশ্বকাপের ১০৪টি ম্যাচের মধ্যে ৯৭টিতে তাপমাত্রা ২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস (৮২.৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট)-এর বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এই মাত্রার তাপ খেলোয়াড়দের শারীরিক সক্ষমতা ও খেলার মানকে উল্লেখযোগ্যভাবে প্রভাবিত করতে পারে।

জলবায়ুবিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ক্লাইমেট সেন্ট্রালের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, উচ্চ তাপমাত্রার কারণে খেলোয়াড়দের দৌড়ানোর গতি কমে যেতে পারে, স্প্রিন্টের সংখ্যা হ্রাস পেতে পারে, দ্রুত ক্লান্তি দেখা দিতে পারে এবং ম্যাচের সামগ্রিক গতি ধীর হয়ে যেতে পারে। এর ফলে দলগুলোর কৌশলগত পরিকল্পনা, খেলার মান এবং দর্শকদের অভিজ্ঞতাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে, টুর্নামেন্টের প্রায় অর্ধেক ম্যাচে অন্তত ৫০ শতাংশ সম্ভাবনা রয়েছে এমন গরম আবহাওয়ার, যা পারফরম্যান্সে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। ২৬টি ম্যাচে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এই ঝুঁকি অন্তত ১০ শতাংশ পয়েন্ট বা তার বেশি বেড়েছে। সামগ্রিকভাবে পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে এই ঝুঁকি গড়ে প্রায় ৮ শতাংশ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়েছে।

সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকোর কয়েকটি শহরে অনুষ্ঠিত ম্যাচগুলো। বিশেষ করে মেক্সিকোর গুয়াদালাহারায় নির্ধারিত উরুগুয়ে ও স্পেনের ম্যাচে তাপমাত্রা ২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়ানোর সম্ভাবনা প্রায় ৬৯ দশমিক ৭ শতাংশ। গবেষকদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব না থাকলে এই সম্ভাবনা উল্লেখযোগ্যভাবে কম হতো।

এ ছাড়া গুয়াদালাহারা ও মিয়ামিতে অনুষ্ঠিতব্য আরও কয়েকটি ম্যাচেও একই ধরনের উচ্চ তাপমাত্রার ঝুঁকি রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন গবেষকরা। নিউ জার্সিতে অনুষ্ঠিতব্য ফাইনালে প্রায় ৪৬ দশমিক ৬ শতাংশ সম্ভাবনা রয়েছে এমন গরম আবহাওয়ার, যা খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অতিরিক্ত তাপমাত্রা খেলোয়াড়দের গতি, সহনশীলতা এবং কৌশলগত সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রভাব ফেলে। পাশাপাশি হিট স্ট্রোকসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকিও বৃদ্ধি পায়। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আয়োজকরা ইতোমধ্যে কিছু পদক্ষেপ নিয়েছেন। গরম অঞ্চলের ম্যাচগুলো সন্ধ্যায় আয়োজন, বাধ্যতামূলক হাইড্রেশন ব্রেক এবং প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত গরমের সময় ম্যাচ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

তবে উদ্বেগ পুরোপুরি কাটছে না। কারণ টুর্নামেন্টের বেশিরভাগ স্টেডিয়ামই খোলা আকাশের নিচে। কেবল আটলান্টা, ডালাস ও হিউস্টনের স্টেডিয়ামগুলো সম্পূর্ণ আবহাওয়া-নিয়ন্ত্রিত। গবেষকদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তন ভবিষ্যতে শুধু ফুটবল নয়, বৈশ্বিক ক্রীড়াঙ্গনের জন্যও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠবে। তাই আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আয়োজনগুলোকে নতুন জলবায়ু বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।