
ইউরোপিয়ান ক্লাব মৌসুম শেষ হওয়ার পর শুরু হয়েছে মর্যাদাপূর্ণ ব্যালন ডি’অরকে ঘিরে তীব্র আলোচনা। ফুটবলবিষয়ক ওয়েবসাইট গোলডটকমের সর্বশেষ পাওয়ার র্যাঙ্কিং অনুযায়ী, এবারের পুরস্কার জয়ের দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে আছেন ইংলিশ স্ট্রাইকার হ্যারি কেইন।
চলতি মৌসুমে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা হ্যারি কেইন বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে ৬৫ গোল করে একাধিক শিরোপা জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। বুন্দেসলিগার পাশাপাশি ডিএফবি পোকাল ও ডিএফএল সুপার কাপ জয়ের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের শিরোপাহীনতার ধারা ভাঙেন তিনি। ফলে ব্যালন ডি’অর দৌড়ে বর্তমানে তাকে অন্যতম প্রধান দাবিদার হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তালিকার দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন ফরাসি তারকা উসমান দেম্বেলে। মৌসুমের শুরুতে ইনজুরিতে থাকলেও পরবর্তীতে দারুণভাবে ফিরে আসেন তিনি। চ্যাম্পিয়নস লিগের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলোতে তার পারফরম্যান্স এবং ফাইনালে গোল করার ঘটনা প্যারিস সেন্ট জার্মেইর সাফল্যে বড় ভূমিকা রাখে। তৃতীয় স্থানে আছেন বার্সেলোনার তরুণ তারকা লামিন ইয়ামাল। ২৫ গোল ও ২০ অ্যাসিস্টে মৌসুমজুড়ে নজর কাড়লেও ইনজুরির কারণে তার ধারাবাহিকতা কিছুটা বাধাগ্রস্ত হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
চতুর্থ স্থানে রয়েছেন ভিতিনহা, যিনি পিএসজির মাঝমাঠে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। পঞ্চম স্থানে আছেন বায়ার্ন মিউনিখের মাইকেল ওলিসে, ২৩ গোল ও ৩৩ অ্যাসিস্ট করে যিনি ইউরোপের অন্যতম আলোচিত ফুটবলার হয়ে উঠেছেন। ষষ্ঠ স্থানে আছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। ৪৮ গোল করলেও বড় কোনো শিরোপা না পাওয়ায় ব্যালন ডি’অর দৌড়ে কিছুটা পিছিয়ে পড়েছেন তিনি। তবে বড় ম্যাচে তার পারফরম্যান্স এখনো তাকে প্রতিযোগিতায় টিকিয়ে রেখেছে।
এদিকে আলোচনায় আছেন লিওনেল মেসিও। ইউরোপীয় ফুটবল ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে খেললেও তিনি ৩৬ গোল ও ২৬ অ্যাসিস্ট করে ইন্টার মায়ামিকে এমএলএস কাপ জয়ে সহায়তা করেন। আসন্ন আন্তর্জাতিক আসরে আর্জেন্টিনার হয়ে বড় সাফল্য পেলে তার রেকর্ড নবম ব্যালন ডি’অর জয়ের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। আয়োজকদের মতে, এবার ব্যালন ডি’অর নির্ধারণে শুধু ক্লাব পারফরম্যান্স নয়, আন্তর্জাতিক আসর—বিশেষ করে বিশ্বকাপ ও আফ্রিকান কাপ অব নেশনসের পারফরম্যান্সও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
আগামী ২৬ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে ব্যালন ডি’অরের ৭০তম আসরের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান। দীর্ঘদিন প্যারিসে আয়োজনের পর এবার প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হবে লন্ডনে। ১৯৫৬ সালে ফ্রান্স ফুটবল ম্যাগাজিন এই পুরস্কার চালু করে, যার প্রথম বিজয়ী ছিলেন স্ট্যানলি ম্যাথিউজ। নতুন প্রজন্মের তারকাদের উত্থান এবং মেসি-রোনালদো যুগের পরবর্তী প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে ঘিরে এবারের ব্যালন ডি’অর নিয়ে ফুটবল বিশ্বে বাড়তি আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন :