বিশ্বকাপের আগে উত্তপ্ত মেক্সিকো, উদ্বোধনী অনুষ্ঠান নিয়ে অনিশ্চয়তা


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : জুন ৪, ২০২৬, ৫:০৭ অপরাহ্ণ
বিশ্বকাপের আগে উত্তপ্ত মেক্সিকো, উদ্বোধনী অনুষ্ঠান নিয়ে অনিশ্চয়তা

ফুটবল বিশ্বকাপের দ্বারপ্রান্তে এসে শিক্ষকদের আন্দোলনে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে মেক্সিকোর রাজধানী মেক্সিকো সিটি। চলমান বিক্ষোভ ও সহিংস ঘটনার কারণে বিশ্বকাপ ঘিরে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে আয়োজক মহল ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে।

বুধবার (৪ জুন) রাজধানীর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সদর দপ্তরে জোরপূর্বক প্রবেশের চেষ্টা চালায় আন্দোলনকারী শিক্ষকরা। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, বিক্ষোভকারীরা ল্যাম্পপোস্টসহ বিভিন্ন বস্তু ব্যবহার করে সরকারি ভবনের প্রবেশপথে হামলা চালায়। এর আগের দিন বিশ্বকাপ উপলক্ষে স্থাপন করা কয়েকজন ফুটবলারের বিশাল প্লাস্টিকের মূর্তি ভেঙে ফেলে আন্দোলনকারীরা। পরে মূর্তিগুলোর গায়ে থাকা জার্সি খুলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।

পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লাউদিয়া শিনবাউম জানিয়েছেন, সরকার কোনো ধরনের দমনমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করবে না। নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, বিক্ষোভকারীরা এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি করতে চাইছে যাতে সরকার বিশ্বকাপের আগে কঠোর অবস্থান নিতে বাধ্য হয়। তবে তার প্রশাসন সংলাপ ও আলোচনার পথেই সমস্যার সমাধান খুঁজবে। প্রেসিডেন্ট শিনবাউম আন্দোলনরত শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সহিংসতার পরিবর্তে সমঝোতার মাধ্যমে সংকট নিরসনই সরকারের লক্ষ্য।

আন্দোলনকারী শিক্ষকদের সংগঠন সিএনটিই (CNTE) দীর্ঘদিন ধরে বেতন বৃদ্ধি ও পেনশন ব্যবস্থার সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে আসছে। সংগঠনটির নেতারা জানিয়েছেন, তাদের দাবি পূরণ না হলে বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান উপলক্ষে ১১ জুন বৃহৎ গণবিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হবে।

সরকারের সঙ্গে আলোচনায় শিক্ষকদের জন্য ৯ শতাংশ বেতন বৃদ্ধির বিষয়ে সমঝোতা হলেও আন্দোলনকারীরা তা প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাদের দাবি, বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় শিক্ষকদের বেতন কমপক্ষে ১০০ শতাংশ বৃদ্ধি করতে হবে। তথ্য অনুযায়ী, মেক্সিকোর সরকারি বিদ্যালয়ে একজন শিক্ষকের প্রারম্ভিক মাসিক মোট বেতন প্রায় ৮৩৩ ইউরো, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার টাকার সমপরিমাণ।

বিশ্বকাপকে সামনে রেখে সরকার আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চালিয়ে গেলেও রাজধানীতে চলমান আন্দোলন ও বিক্ষোভ আয়োজক এবং নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলেছে।