ঘুষের দায়ে গ্রেপ্তার ইন্দোনেশিয়ার উপমন্ত্রী


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : জুন ৪, ২০২৬, ৯:১৭ অপরাহ্ণ
ঘুষের দায়ে গ্রেপ্তার ইন্দোনেশিয়ার উপমন্ত্রী

ইন্দোনেশিয়ায় দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে ঘুষ ও চাঁদাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন দেশটির অভিবাসন ও সংশোধন বিষয়ক উপমন্ত্রী সিলমি করিম। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দেশটির দুর্নীতিবিরোধী সংস্থা কেপিক (KPK) তার গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। এ খবর জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স।

সিলমি করিমের গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে টানা দুই দিনে দুর্নীতির অভিযোগে সরকারের দুইজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হলো। এর আগের দিন প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি ‘বিনামূল্যে খাবার প্রকল্প’-এর সাবেক তদারকি কর্মকর্তা দাদান হিন্দায়ানাকে দুর্নীতির অভিযোগে আটক করে দেশটির অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় (এজিও)। তবে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দুটি মামলার মধ্যে কোনো ধরনের সম্পর্ক নেই।

কেপিকের তথ্যমতে, সিলমি করিমসহ মোট আটজনের বিরুদ্ধে একটি পরিকল্পিত চাঁদাবাজি চক্র পরিচালনার অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এই চক্র বিদেশি নাগরিকদের ইন্দোনেশিয়ায় থাকার অনুমতি বা আবাসিক সুবিধা দেওয়ার বিনিময়ে অবৈধভাবে অর্থ আদায় করত। কেপিকের প্রধান সেতিও বুদিয়ান্তো সাংবাদিকদের জানান, অভিযুক্তরা অভিবাসন প্রক্রিয়াকে কাজে লাগিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এই কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছিলেন।

বুধবার রাত থেকে সিলমি করিমকে কেপিক কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। প্রায় ১০ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর বৃহস্পতিবার সকালে তাকে হাতকড়া পরিহিত এবং কমলা রঙের বন্দি পোশাকে কার্যালয় থেকে বের হতে দেখা যায়। পরে তাকে রাজধানী জাকার্তার একটি আটক কেন্দ্রে নেওয়া হয়।

কেপিকের মুখপাত্র বুদি জানিয়েছেন, ২০২৩ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে সংঘটিত এসব অনিয়মের সময় সিলমি করিম অভিবাসন বিষয়ক মহাপরিচালকের দায়িত্বে ছিলেন। সে সময় দেশটির প্রেসিডেন্ট ছিলেন জোকো উইদোদো।

এদিকে একই দিনে ইন্দোনেশিয়ার একটি আদালত সাবেক শ্রম উপমন্ত্রী ইমানুয়েল ইবেনেজারকে নিরাপত্তা সংক্রান্ত অনুমতিপত্র প্রক্রিয়াকরণে দুর্নীতির দায়ে সাড়ে চার বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন। তিনি গত বছর গ্রেপ্তার হয়েছিলেন এবং প্রেসিডেন্ট প্রাবোওর মন্ত্রিসভার প্রথম সদস্য হিসেবে ফৌজদারি সাজা পেলেন।

সরকারের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রীয় সচিবালয় বিষয়ক মন্ত্রী প্রাসেতিও হাদি বলেছেন, সাম্প্রতিক এসব ঘটনায় সরকার উদ্বিগ্ন হলেও দুর্নীতিবিরোধী সংস্থা ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর স্বাধীন তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়ার প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা জানায়। তিনি দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতির কথাও পুনর্ব্যক্ত করেন।