
সব মামলায় জামিন পাওয়ার পর নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী কারামুক্ত হয়ে নিজ বাসভবন চুনকা কুটিরে ফিরেছেন। বুধবার (৩ জুন) রাত সাড়ে ১২টার দিকে নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগ এলাকায় অবস্থিত পারিবারিক বাসভবনে পৌঁছান তিনি। এ সময় মুক্তির সুযোগ করে দেওয়ায় সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানান আইভী।
কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় জামিনের কাগজপত্র যাচাই-বাছাই শেষে রাত ১০টা ৮ মিনিটে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়। নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন থানায় দায়ের করা ১২টি মামলায় হাইকোর্ট থেকে পাওয়া জামিন আপিল বিভাগেও বহাল থাকায় তার মুক্তিতে আর কোনো আইনি বাধা ছিল না। নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগারের জেলার শিরিন আক্তার বলেন, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সেলিনা হায়াৎ আইভীকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তিনি কারাগার ত্যাগ করেন।
কারা অধিদপ্তরের সহকারী কারা মহাপরিদর্শক (এআইজি) জান্নাত উল ফরহাদ জানান, হাইকোর্ট এবং নারায়ণগঞ্জের চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের জামিন সংক্রান্ত আদেশ কারা কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছানোর পর বিষয়টি যাচাই করা হয়। পাশাপাশি নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগারের রেকর্ড অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে থাকা নয়টি মামলায়ও জামিন নিশ্চিত করা হয়। অন্য কোনো আটকাদেশ না থাকায় তাকে মুক্তি দেওয়া হয়।
কারা সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের ৯ মে নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগ এলাকার নিজ বাসা থেকে গ্রেপ্তার হওয়ার পর তাকে কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছিল। আইভীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট আওলাদ হোসেন দাবি করেন, তার মক্কেলের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলো ভিত্তিহীন। তিনি বলেন, এক বছরের বেশি সময় কারাবন্দি থাকার পর হাইকোর্ট জামিন প্রদান করেন। পরে রাষ্ট্রপক্ষ জামিনাদেশ স্থগিতের আবেদন করলেও আপিল বিভাগ তা বহাল রাখায় আইভীর মুক্তির পথ সুগম হয়।
চব্বিশের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকে কেন্দ্র করে হত্যা, হত্যাচেষ্টা ও অন্যান্য অভিযোগে দায়ের হওয়া একাধিক মামলায় পর্যায়ক্রমে হাইকোর্ট থেকে জামিন পান সেলিনা হায়াৎ আইভী। পরে আপিল বিভাগও এসব জামিন বহাল রাখে। আইনজীবী আওলাদ হোসেন আরও জানান, আইভী তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলোর আইনি লড়াই চালিয়ে যাবেন এবং ভবিষ্যতে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে।
উল্লেখ্য, সেলিনা হায়াৎ আইভী ২০০৩ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার মেয়র ছিলেন। পরে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন গঠনের পর টানা তিনবার মেয়র নির্বাচিত হন। তিনি জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতির দায়িত্বও পালন করে আসছেন।
আপনার মতামত লিখুন :