
মঙ্গলবার (২ জুন) জাতিসংঘ সদর দপ্তরে দেওয়া বক্তব্যে তিনি সদস্য রাষ্ট্রগুলোর আস্থা ও সমর্থনের জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। দায়িত্ব গ্রহণকে তিনি একদিকে যেমন সম্মানের বলে উল্লেখ করেন, তেমনি এটিকে একটি বড় দায়িত্ব হিসেবেও অভিহিত করেন। তিনি বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও ঐক্যের বিকল্প নেই।
ড. খলিলুর রহমান বলেন, তাকে এ পদে মনোনয়ন দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি তিনি বিশেষভাবে কৃতজ্ঞ। একই সঙ্গে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করা দলীয় সহকর্মী, দেশের জনগণ এবং আন্তর্জাতিক সমর্থকদেরও ধন্যবাদ জানান তিনি।
নিজের বক্তব্যে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী আন্দ্রেয়াস কাকৌরিসের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, কাকৌরিসের প্রচারণা ছিল ইতিবাচক, গঠনমূলক এবং ভবিষ্যতের জন্য অনুকরণীয় একটি উদাহরণ। বিশ্বব্যাপী চলমান সংকটের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, সংঘাত, মানবিক বিপর্যয়, উন্নয়ন কার্যক্রমের স্থবিরতা এবং মানবাধিকারের অবনতির কারণে জাতিসংঘের কার্যকারিতা নিয়ে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। এর পাশাপাশি আর্থিক সংকটও সংস্থাটির জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তিনি শান্তি ও নিরাপত্তাকে তার কর্মপরিকল্পনার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করেন। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশ সবসময়ই গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছে। ড. খলিলুর রহমান সংঘাত প্রতিরোধ, সংলাপ ও রাজনৈতিক সমাধানকে উৎসাহিত করা, বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং শান্তিরক্ষা মিশনে নারীদের অংশগ্রহণ আরও বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে বিশ্ব এখনও কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি থেকে অনেক পিছিয়ে রয়েছে উল্লেখ করে তিনি আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান জানান। পাশাপাশি এসডিজি অর্থায়ন, ঋণ ব্যবস্থাপনার সংস্কার, বৈশ্বিক আর্থিক কাঠামোর উন্নয়ন এবং স্বল্পোন্নত দেশগুলোর উন্নয়নে দোহা কর্মসূচির কার্যকর বাস্তবায়নের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তার বক্তব্যে একটি কার্যকর, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও জবাবদিহিমূলক জাতিসংঘ গড়ে তোলার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করা হয়।
আপনার মতামত লিখুন :