স্পেনের পাহাড়ের নিচে মিলল ২ হাজার বছরের পুরোনো সোনার খনি


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : জুন ৩, ২০২৬, ১১:৫৪ পূর্বাহ্ণ
স্পেনের পাহাড়ের নিচে মিলল ২ হাজার বছরের পুরোনো সোনার খনি

স্পেনের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের একটি পাহাড়ি এলাকায় প্রায় দুই হাজার বছর পুরোনো একটি রোমান সোনার খনির সন্ধান পেয়েছেন গবেষকেরা। নতুন এই আবিষ্কার প্রমাণ করে, আধুনিক প্রযুক্তি ছাড়াই রোমান প্রকৌশলীরা অত্যন্ত উন্নত জলচালিত খনন পদ্ধতি ব্যবহার করে বিপুল পরিমাণ মাটি সরিয়ে সোনা উত্তোলন করতেন।

গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, স্পেন-ফ্রান্স সীমান্তবর্তী সেরদানিয়া উপত্যকার গুইয়েতেরেস দ’আল এলাকায় আবিষ্কৃত নিদর্শনগুলো একটি বৃহৎ ও সুপরিকল্পিত রোমান খনির অংশ। প্রত্নতাত্ত্বিক অনুসন্ধানে সেখানে পলি স্তরের নিচে চাপা পড়ে থাকা একটি প্রাচীন জলাধারের সন্ধান পাওয়া গেছে, যা সোনা উত্তোলনে ব্যবহৃত রোমান জলপ্রকৌশলের গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

প্রথমে এলাকাটি সাধারণ পাহাড়ি ভূদৃশ্য বলে মনে হলেও বিস্তারিত গবেষণায় প্রত্নতত্ত্ববিদেরা সরু পরিখা, কৃত্রিমভাবে কাটা ঢাল এবং বিশাল খননক্ষেত্রের জটিল কাঠামো শনাক্ত করেন। বিশেষ করে প্রায় ৩০০ মিটার প্রশস্ত একটি বৃত্তাকার খনন এলাকা গবেষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে, যা বৃহৎ পরিসরের খনন কার্যক্রমের ইঙ্গিত দেয়।

ইউনিভার্সিটি অব আ কোরুনা এবং ইউনিভার্সিটি অব বার্সেলোনার গবেষকদের মতে, এটি কোনো ছোট বা পরীক্ষামূলক খনন প্রকল্প ছিল না। বরং রোমান সাম্রাজ্যের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা একটি বৃহৎ শিল্পভিত্তিক খনির অংশ ছিল।

গবেষণায় জানা গেছে, রোমানরা গভীর সুড়ঙ্গ খননের পরিবর্তে জলচালিত পদ্ধতি ব্যবহার করত। এ প্রযুক্তিতে জলাধারে বিপুল পরিমাণ পানি সংরক্ষণ করে বিশেষ খালের মাধ্যমে সোনাসমৃদ্ধ পলির দিকে প্রবাহিত করা হতো। পানির শক্তিশালী স্রোতে মাটি, নুড়ি ও শিলা ভেঙে নিচে নেমে যেত এবং পরে শ্রমিকেরা সেখান থেকে স্বর্ণকণা সংগ্রহ করতেন।

২০১০ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে পরিচালিত খননকাজে প্রায় ৪ দশমিক ৫ মিটার চওড়া এবং ১ দশমিক ৫ মিটার গভীর একটি প্রাচীন জলাধার আবিষ্কৃত হয়। বড় পাথরের ব্লক দিয়ে নির্মিত বাঁধের মাধ্যমে এটি শক্তিশালী করা হয়েছিল।

অপটিক্যালি স্টিমুলেটেড লুমিনেসেন্স (ওএসএল) পদ্ধতিতে পরিচালিত পরীক্ষায় জানা যায়, খ্রিস্টীয় দ্বিতীয় শতাব্দীর শেষ ভাগ থেকে তৃতীয় শতাব্দীর শুরুতে এই জলচালিত খনন ব্যবস্থা পরিত্যক্ত হয়েছিল। গবেষকদের হিসাব অনুযায়ী, খনিটি পরিচালনার সময় প্রায় ২০ লাখ ঘনমিটার মাটি সরানো হয়েছিল, যা কয়েক মিলিয়ন টনের সমতুল্য।

গবেষকদের মতে, এই আবিষ্কার শুধু একটি হারিয়ে যাওয়া সোনার খনির সন্ধান নয়, বরং রোমান সাম্রাজ্যের প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ, প্রকৌশল দক্ষতা এবং অর্থনৈতিক শক্তির এক অনন্য সাক্ষ্য। দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে জলাধার ও খালনির্ভর অবকাঠামো নির্মাণে রোমানদের সক্ষমতার নতুন প্রমাণ হিসেবেও এটি গুরুত্বপূর্ণ।