বাংলাদেশসহ ৬০ দেশের ওপর নতুন শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : জুন ৩, ২০২৬, ১২:৪৮ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশসহ ৬০ দেশের ওপর নতুন শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের

জোরপূর্বক শ্রমের মাধ্যমে উৎপাদিত পণ্যের বাণিজ্য প্রতিরোধে ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে বাংলাদেশসহ ৬০টি দেশ থেকে আমদানিকৃত বিভিন্ন পণ্যের ওপর নতুন শুল্ক আরোপের প্রস্তাব দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার এ সংক্রান্ত প্রস্তাব প্রকাশ করেছে মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধির কার্যালয় (ইউএসটিআর)।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেকশন ৩০১ তদন্তের আওতায় বাংলাদেশ, কানাডা, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, মেক্সিকো, পাকিস্তান, আর্জেন্টিনা, কম্বোডিয়া, মালয়েশিয়া, তাইওয়ান এবং যুক্তরাজ্যসহ ১৫টি অর্থনীতি থেকে আমদানিকৃত পণ্যের ওপর অতিরিক্ত ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে। তদন্তের আওতায় থাকা বাকি ৪৫টি দেশের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত শুল্কের হার নির্ধারণ করা হয়েছে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ।

ইউএসটিআরের দাবি, সংশ্লিষ্ট দেশগুলো জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের আমদানি ও বাণিজ্য প্রতিরোধে যথেষ্ট কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারেনি। এর ফলে মার্কিন শ্রমিক ও উৎপাদকরা আন্তর্জাতিক বাজারে অসম প্রতিযোগিতার মুখোমুখি হচ্ছেন।

এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার বলেন, “আমাদের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য অংশীদারদের জোরপূর্বক শ্রমে তৈরি পণ্যের বাণিজ্য বন্ধে ব্যর্থতা গ্রহণযোগ্য নয়। এর প্রভাব সরাসরি মার্কিন শ্রমিকদের ওপর পড়ছে এবং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় তাদের অবস্থান দুর্বল করছে।”

একই সঙ্গে ইউএসটিআর একটি নতুন টেক্সটাইল ও পোশাক আমদানি ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাবও দিয়েছে। এর আওতায় নির্দিষ্ট পরিমাণ বস্ত্র ও পোশাকপণ্য তুলনামূলক কম শুল্কে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রবেশের সুযোগ পেতে পারে। তবে এই সুবিধার আওতায় শুল্কহার ও আমদানির পরিমাণ এখনও নির্ধারণ করা হয়নি।

এ ঘোষণা এমন সময় এলো, যখন ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপিত অস্থায়ী ১০ শতাংশ সর্বজনীন শুল্কের মেয়াদ আগামী ২৪ জুলাই শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। চলতি বছরের ২০ ফেব্রুয়ারি ওই শুল্ক কার্যকর করা হলেও পরে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট আন্তর্জাতিক জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইনের আওতায় আরোপিত শুল্ক বাতিল করে দেয়।

এদিকে ইউএসটিআর জানিয়েছে, নতুন শুল্ক ব্যবস্থার আওতার বাইরে থাকবে জ্বালানি, রেয়ার আর্থ খনিজ, কিছু ধাতু, গরুর মাংস, কফি, নির্দিষ্ট ফল ও সবজি, ওষুধ, জৈব রাসায়নিক পদার্থ এবং উড়োজাহাজের যন্ত্রাংশ।

প্রস্তাবিত শুল্ক ও সংশ্লিষ্ট প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা নিয়ে আগামী ৬ জুলাই পর্যন্ত জনমত গ্রহণ করা হবে। এরপর ৭ জুলাই এ বিষয়ে একটি গণশুনানির আয়োজন করবে ইউএসটিআর। বিষয়টি বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের রপ্তানি খাত, বিশেষ করে তৈরি পোশাক শিল্পের ওপর এর প্রভাব নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।