
এনায়েতপুর থানার বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে তাদের এলাকাকে একটি পূর্ণাঙ্গ উপজেলা হিসেবে ঘোষণার দাবি জানিয়ে আসছেন। সম্ভাবনাময় ও সমৃদ্ধ জনপদ হিসেবে পরিচিত এনায়েতপুর থানা বর্তমানে তিনটি উপজেলার এক প্রান্তের চারটি ইউনিয়ন এবং একটি ইউনিয়নের অংশবিশেষ নিয়ে গঠিত।
এলাকাটি শিক্ষা, তাঁতশিল্প, চিকিৎসা সেবা এবং আন্তঃজেলা হাটবাজারসহ নানা দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ হলেও উপজেলা সদর থেকে এর দূরত্ব বেশি হওয়ায় প্রশাসনিক সেবা পেতে স্থানীয়দের চরম ভোগান্তির শিকার হতে হয়। অনেকের মতে, দূরবর্তী অবস্থানের কারণে সরকারি কার্যক্রমের তদারকি ও মনিটরিংও তুলনামূলকভাবে কম হয়।
স্থানীয়দের দাবি, একটি উপজেলা গঠনের জন্য যে প্রশাসনিক ও জনসংখ্যাগত শর্ত রয়েছে, এনায়েতপুর থানা তা পূরণ করে। এ কারণে প্রায় দুই যুগ ধরে এলাকাবাসী ‘এনায়েতপুর উপজেলা’ বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে আসছেন। গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময়ও ভোটাররা বিষয়টি প্রার্থীদের সামনে জোরালোভাবে তুলে ধরেন। সিরাজগঞ্জ-৫ আসনের একাধিক প্রার্থীও নির্বাচিত হলে উপজেলা বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন বলে জানা যায়।
এ বিষয়ে এনায়েতপুরের বাসিন্দা ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট গোলাম কিবরিয়া বলেন, “এনায়েতপুর শুধু একটি থানা নয়, এটি উত্তরাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা, স্বাস্থ্য, তাঁতশিল্প ও ব্যবসাকেন্দ্র। বিপুল জনসংখ্যা, অর্থনৈতিক গুরুত্ব ও ভৌগোলিক অবস্থান বিবেচনায় এটিকে উপজেলা ঘোষণা এখন সময়ের দাবি।”
অন্যদিকে বেতিল বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের প্রভাষক মুছা আহমেদ বলেন, প্রশাসনিক সেবার সুবিধার্থে দ্রুত এনায়েতপুরকে উপজেলা ঘোষণা করা জরুরি। এতে সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি অনেকাংশে কমে আসবে।
এনায়েতপুর থানা ইয়ুথ ফোরামের সাধারণ সম্পাদক ও দীর্ঘদিনের আন্দোলনকর্মী আসাদুজ্জামান আসাদ জানান, এর আগে দুই দফায় উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। তবে সম্প্রতি নতুন করে পাঁচটি উপজেলা ঘোষণার পর এলাকাবাসীর মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। তিনি বলেন, আইনগত সব শর্ত পূরণ থাকায় এখন দ্রুত এনায়েতপুরকে উপজেলা ঘোষণার দাবি আরও জোরালো হয়েছে। এলাকাবাসীর মতে, এ দাবি এখন আর শুধু প্রত্যাশা নয়, বরং সময়ের প্রয়োজন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন :