
ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হয়েছেন—এমন তথ্য বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের বরাতে প্রকাশিত হলেও এ বিষয়ে এখনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি নিয়ে চূড়ান্ত কোনো সরকারি ঘোষণা না থাকায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিভ্রান্তি ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
প্রাপ্ত কিছু প্রতিবেদনে দাবি করা হচ্ছে, ১৯৮৯ সাল থেকে ক্ষমতায় থাকা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর পর ইরান সরকার রাষ্ট্রীয়ভাবে শোক পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এসব প্রতিবেদনে ৪০ দিনের শোক ঘোষণা এবং সাত দিনের সাধারণ ছুটির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে একই সঙ্গে বলা হচ্ছে, পূর্বে ৪ মার্চ থেকে তিন দিনব্যাপী বিদায়ী রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানের যে পরিকল্পনা ছিল, তা নিরাপত্তাজনিত জটিলতা ও চলমান পরিস্থিতির কারণে স্থগিত করা হয়েছে।
পরবর্তীতে নতুন কিছু প্রতিবেদনে জানানো হয়, সরকার এখন প্রয়াত নেতার জন্য তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক অনুষ্ঠান আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। তেহরানের ডেপুটি মেয়র মোহাম্মদ আমিন তাভাকোলিজাদেহ রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে বলেছেন, “তিন দিনের শোকযাত্রা ও দাফন অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি চলছে।”
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, শোকযাত্রার মূল আয়োজন তেহরান ছাড়াও কোম ও মাশহাদ শহরে অনুষ্ঠিত হতে পারে। মাশহাদে দাফন সম্পন্ন হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। ইসলামি ক্যালেন্ডারের প্রথম মাস মহররমের শুরুতে, যা জুনের মাঝামাঝি সময়ে পড়তে পারে, তখন এসব রাষ্ট্রীয় আয়োজন হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
শোকযাত্রা অন্তত ২৪ ঘণ্টা চলবে এবং এতে বিপুলসংখ্যক মানুষের অংশগ্রহণের সম্ভাবনার কথাও বলা হচ্ছে।
তবে এখন পর্যন্ত ইরানি সরকারের পক্ষ থেকে আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যু বা রাষ্ট্রীয় শোকসংক্রান্ত বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ও চূড়ান্ত ঘোষণা দেওয়া হয়নি। ফলে বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তথ্য নিয়ে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হয়নি।
আপনার মতামত লিখুন :