আইএমএফের কাছে নতুন ঋণ চেয়ে চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : জুন ৩, ২০২৬, ৭:৫২ অপরাহ্ণ
আইএমএফের কাছে নতুন ঋণ চেয়ে চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)-এর কাছে নতুন কর্মসূচির আওতায় ঋণ চেয়েছে বাংলাদেশ। দেশের অর্থনৈতিক সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নিতে নতুন এই ঋণ কর্মসূচি শুরুর অনুরোধ জানিয়ে সংস্থাটিকে আনুষ্ঠানিক চিঠি দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (৩ জুন) এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছেন আইএমএফের বাংলাদেশ মিশনপ্রধান আইভো ক্রিজনার। বিবৃতিতে বলা হয়, আইএমএফের সঙ্গে বাংলাদেশের বর্তমান কর্মসূচিগুলো হলো বর্ধিত ঋণ সুবিধা (ইসিএফ), বর্ধিত তহবিল সুবিধা (ইএফএফ) এবং রেজিলিয়েন্স অ্যান্ড সাসটেইনেবিলিটি ফ্যাসিলিটি (আরএসএফ)। ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে অনুমোদনের পর থেকে বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে, যার ফলে বিদ্যমান কর্মসূচির বাস্তবায়ন আরও জটিল হয়ে পড়েছে।

এতে আরও বলা হয়, বর্তমানে বাংলাদেশকে ব্যাংক খাতের দুর্বলতা, কম রাজস্ব আদায় এবং নতুন সংস্কার উদ্যোগ বাস্তবায়নের মতো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে। এ অবস্থায় নতুন কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার সুযোগ তৈরি হয়েছে, যা বর্তমান বাস্তবতা ও নতুন সরকারের অগ্রাধিকারকে প্রতিফলিত করবে।

আইএমএফের মতে, বাংলাদেশের বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য রক্ষায় নতুন নীতি ও সংস্কারভিত্তিক শক্তিশালী কর্মসূচি প্রয়োজন। তবে এর জন্য সংস্থাটির নির্বাহী বোর্ডের অনুমোদন লাগবে। আইভো ক্রিজনার জানান, আইএমএফের একটি প্রতিনিধিদল শিগগিরই বাংলাদেশ সফর করবে। সফরে সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা, নীতিগত অগ্রাধিকার নিয়ে আলোচনা এবং সম্ভাব্য নতুন কর্মসূচির কাঠামো নির্ধারণ করা হবে।

তিনি আরও বলেন, নতুন কর্মসূচির আকার, সংস্কার অঙ্গীকার এবং বাস্তবায়ন পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। আইএমএফ বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধিতে সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে। এর আগে ২০২২ সালের ২৪ জুলাই বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য রক্ষা ও বাজেট সহায়তার জন্য বাংলাদেশ আইএমএফের কাছে ঋণ চেয়েছিল। পরে ৪৭০ কোটি ডলারের একটি কর্মসূচি অনুমোদিত হয়, যা পরবর্তীতে বেড়ে ৫৫০ কোটি ডলারে উন্নীত করা হয়।

এখন পর্যন্ত ওই কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশ ৩৬৪ কোটি ডলার পেয়েছে এবং বাকি কিস্তি ধাপে ধাপে ছাড়ের অপেক্ষায় রয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, নতুন প্রস্তাবিত কর্মসূচির আকার হতে পারে ৪০০ থেকে ৪৫০ কোটি মার্কিন ডলার এবং এর মেয়াদ তিন বছর হতে পারে। নতুন কর্মসূচিতে অগ্রাধিকারভিত্তিক সংস্কার ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনাও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।