রোহিঙ্গাদের দীর্ঘমেয়াদি উপস্থিতি বাংলাদেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : জুন ২, ২০২৬, ৬:১৬ অপরাহ্ণ
রোহিঙ্গাদের দীর্ঘমেয়াদি উপস্থিতি বাংলাদেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানে নরওয়ে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও কার্যকর ভূমিকা কামনা করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গার দীর্ঘমেয়াদি উপস্থিতি দেশের নিরাপত্তা ও অর্থনীতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই তাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ এবং টেকসই উপায়ে নিজ দেশ মিয়ানমারে প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জরুরি।

মঙ্গলবার (২ জুন) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নিজ কার্যালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত নরওয়ের রাষ্ট্রদূত হাকোন আরাল্ড গুলব্র্যান্ডসেন সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এসব কথা বলেন। সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা এবং রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

বৈঠকের শুরুতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশকে ১৯৭২ সালে স্বীকৃতি দেওয়া এবং দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে দীর্ঘদিনের সহযোগিতার জন্য নরওয়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের বৈদেশিক নীতিতে জাতীয় স্বার্থ, সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, যার ভিত্তি গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, মানবাধিকার ও আইনের শাসন।

সাক্ষাৎকালে নরওয়ের রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের সাম্প্রতিক আর্থ-সামাজিক অগ্রগতির প্রশংসা করে জানান, নরওয়ে এখন প্রচলিত উন্নয়ন সহযোগিতার পাশাপাশি দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে গুরুত্ব দিচ্ছে। এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশের ওষুধ, চামড়াজাত পণ্য, তথ্যপ্রযুক্তি সেবা, পাটজাত পণ্য ও হস্তশিল্পের মতো উচ্চমূল্যের পণ্য নরওয়ের বাজারে রপ্তানির সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন।

তিনি নবায়নযোগ্য জ্বালানি, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, জাহাজ নির্মাণ এবং প্যাকেজিং শিল্পে নরওয়েজীয় বিনিয়োগ বাড়ানোরও আহ্বান জানান। পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় নরওয়ের আন্তর্জাতিক নেতৃত্বের প্রশংসা করে গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ড ও নরফান্ডের মাধ্যমে বাংলাদেশে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে মন্ত্রী কক্সবাজারে আশ্রিত জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিকদের জন্য নরওয়ের মানবিক সহায়তা এবং Norwegian Refugee Council-এর কার্যক্রমের প্রশংসা করেন। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, এ সংকটের দীর্ঘস্থায়ী সমাধান কেবল প্রত্যাবাসনের মাধ্যমেই সম্ভব। জবাবে রাষ্ট্রদূত হাকোন আরাল্ড গুলব্র্যান্ডসেন আশ্বাস দেন, জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে বাংলাদেশ ও নরওয়ের সহযোগিতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে এবং বাংলাদেশের উন্নয়ন ও নিরাপত্তার স্বার্থে নরওয়ে পাশে থাকবে।