
উত্তরাঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ সবজির পাইকারি মোকাম বগুড়ার মহাস্থান হাটে সরকারি টোল তালিকা না থাকা, অতিরিক্ত খাজনা আদায় এবং ‘ধলতা’ নামে পরিচিত ফাও সবজি নেওয়ার অভিযোগে ক্ষোভ বাড়ছে কৃষকদের মধ্যে। কোটি কোটি টাকার সবজি বেচাকেনার এই হাটে প্রতিদিন হাজারো কৃষক এলেও তারা নানা অনিয়মের শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
সোমবার (২ জুন) সকাল ১০টায় মহাস্থান হাট ঘুরে দেখা যায়, হাটের কোথাও সরকার নির্ধারিত টোল বা খাজনার তালিকা প্রদর্শন করা হয়নি। ফলে কৃষক ও ব্যবসায়ীরা নির্ধারিত হারের বিষয়ে অবগত না থাকায় ইজারাদারের প্রতিনিধিদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়ছেন বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।
বগুড়া ছাড়াও জয়পুরহাট, গাইবান্ধা ও নওগাঁ জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা কৃষকরা জানান, হাটে সবজি বিক্রির সময় ‘ধলতা’ নামে প্রতি মণে (৪০ কেজি) অতিরিক্ত ২ কেজি সবজি বিনামূল্যে দিতে বাধ্য করা হয়। এতে একজন কৃষক উল্লেখযোগ্য পরিমাণ পণ্যের মূল্য থেকে বঞ্চিত হন।
একাধিক কৃষক অভিযোগ করে বলেন, কঠোর পরিশ্রমে উৎপাদিত ফসল বিক্রি করতে এসে নানা অজুহাতে তাদের পণ্যের একটি অংশ বিনা মূল্যে কেটে নেওয়া হয়। এতে উৎপাদন খরচের তুলনায় ন্যায্য মূল্য পাওয়া কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করে, টোল তালিকা দৃশ্যমান না থাকায় অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের সুযোগ তৈরি হয়েছে। তাদের দাবি, সরকার নির্ধারিত হার প্রকাশ্যে প্রদর্শন করা হলে কৃষক ও ব্যবসায়ীরা সচেতন হবেন এবং অনিয়ম কমে আসবে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, শুধু পাইকারি ব্যবসায়ীরাই নয়, ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য অল্প পরিমাণ সবজি কিনেও হাট থেকে বের হওয়ার সময় খাজনা নিয়ে নানা ধরনের বিতর্কের মুখোমুখি হতে হয়।
এলাকাবাসীর মতে, মহাস্থান হাট থেকে বিপুল রাজস্ব আদায় হলেও নিয়মিত তদারকির অভাবে নানা অসঙ্গতি দীর্ঘদিন ধরে চলমান রয়েছে। তারা অভিযোগ করেন, প্রভাবশালী মহলের ছত্রচ্ছায়ায় অনেক অনিয়মের বিরুদ্ধে কেউ প্রকাশ্যে কথা বলতে সাহস পান না।
অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, সদ্য অনুষ্ঠিত কোরবানির ঈদে গরু-ছাগলের হাসিল আদায় নিয়েও অভিযোগ ওঠে। স্থানীয়দের দাবি, সরকার নির্ধারিত হারের চেয়ে বেশি খাজনা আদায় করা হয়েছে। এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপের পর সাময়িকভাবে নির্ধারিত হারে খাজনা নেওয়া হলেও পরে আবার অতিরিক্ত আদায়ের অভিযোগ পাওয়া যায়।
সচেতন নাগরিকরা মনে করেন, মহাস্থান হাটের সুশাসন নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সরকার নির্ধারিত বাংলা টোল চার্ট টাঙানো, ‘ধলতা’ প্রথা বন্ধ, ডিজিটাল ওজন ব্যবস্থা চালু, নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা এবং অভিযোগ গ্রহণের জন্য পৃথক বুথ স্থাপন জরুরি।
সংশ্লিষ্ট আইন অনুযায়ী, সরকারি ইজারাপ্রাপ্ত হাটে সরকার নির্ধারিত টোল তালিকা দৃশ্যমান স্থানে প্রদর্শন বাধ্যতামূলক। এ নিয়ম লঙ্ঘিত হলে ইজারা বাতিলসহ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে মহাস্থান হাটের ইজারাদার শাহাদত হোসেন বলেন, টোল তালিকা আগে ছিল, তবে সেটি নষ্ট হয়ে যাওয়ায় বর্তমানে দৃশ্যমান নেই। দ্রুত নতুন তালিকা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। ‘ধলতা’ প্রসঙ্গে তিনি দাবি করেন, পরিবহনের সময় কিছু সবজি নষ্ট হওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে ব্যবসায়ীরা এ পদ্ধতি অনুসরণ করে থাকেন।
এ বিষয়ে শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান বলেন, মহাস্থান হাটে অনিয়মের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হবে। পাশাপাশি দ্রুত টোল তালিকা টাঙানোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আপনার মতামত লিখুন :