রাজধানীতে বৃদ্ধার পচাগলা মরদেহ উদ্ধার নিয়ে যা জানা যাচ্ছে


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : জুন ২, ২০২৬, ১১:০৪ পূর্বাহ্ণ
রাজধানীতে বৃদ্ধার পচাগলা মরদেহ উদ্ধার নিয়ে যা জানা যাচ্ছে

রাজধানীর মিরপুরে একটি আবাসিক ফ্ল্যাট থেকে নুরজাহান বেগম (৭২) নামে এক বৃদ্ধার পচনধরা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অন্তত সাত থেকে আট দিন আগে তার মৃত্যু হয়েছে। তবে একই বাসায় বসবাস করেও মেয়ে বিষয়টি বুঝতে না পারায় ঘটনাটি ঘিরে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।

রোববার (৩১ মে) রাতে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল পেয়ে মিরপুরের ৬ নম্বর সেকশনের সি ব্লকের ১২ নম্বর রোডের ৮ নম্বর বাসায় গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাসাটি বৃদ্ধার মেয়ের। ওই ফ্ল্যাটের একটি কক্ষে নুরজাহান বেগম এবং অন্য একটি কক্ষে তার মেয়ে থাকতেন। রোববার মেয়ে মাকে ডাকতে গিয়ে কোনো সাড়া না পেয়ে একজন নার্সকে বাসায় ডেকে আনেন। তিনি ধারণা করেছিলেন, তার মা হয়তো অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। কিন্তু কক্ষে প্রবেশ করে নার্স দেখতে পান, বৃদ্ধা অনেক আগেই মারা গেছেন এবং মরদেহে পচন ধরে শরীরের বিভিন্ন অংশের মাংস খুলে বিছানায় পড়ে আছে।

খবর পেয়ে স্থানীয়রা ৯৯৯-এ ফোন করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রাজধানীর মর্গে পাঠায়। স্থানীয় বাসিন্দাদের ধারণা, প্রায় এক সপ্তাহ বা তারও আগে নুরজাহান বেগমের মৃত্যু হয়েছে। তবে এ সময়ের মধ্যে মেয়ে মায়ের কক্ষে না যাওয়ায় মৃত্যুর বিষয়টি অজানাই থেকে যায়।

পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান বশির বলেন, বৃদ্ধার মরদেহে ব্যাপক পচন ধরেছিল। একই বাসায় বসবাস করেও মেয়ে দুর্গন্ধ বা অন্য কোনো অস্বাভাবিকতা টের পাননি বলে জানিয়েছেন। বিষয়টি পুলিশকে ভাবিয়ে তুলেছে এবং এ বিষয়ে বিস্তারিত খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

পুলিশ সূত্রে আরও জানা গেছে, নুরজাহান বেগমের এক ছেলে মোংলা স্থলবন্দরের সচিব পদে কর্মরত এবং আরেক ছেলে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষক। তারা কেউ মায়ের সঙ্গে থাকতেন না। মায়ের মৃত্যুর খবর পেয়ে শিক্ষক ছেলে ঘটনাস্থলে এলেও অপর ছেলে সেখানে উপস্থিত হননি।

পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।