একদিনের ব্যবধানে বিশ্ববাজারে ফের কমল তেলের দাম


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : জুন ২, ২০২৬, ৫:৫২ অপরাহ্ণ
একদিনের ব্যবধানে বিশ্ববাজারে ফের কমল তেলের দাম

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান শান্তি আলোচনা নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের দামে কিছুটা পতন দেখা গেছে। আগের দিন বড় ধরনের মূল্যবৃদ্ধির পর মঙ্গলবার (২ জুন) বিনিয়োগকারীরা সতর্ক অবস্থান নেওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কমেছে।

জিও নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার সকাল ১০টা ৩৪ মিনিটে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ৭৫ সেন্ট বা ০.৭৯ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৯৪ দশমিক ২৩ ডলারে নেমে আসে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দাম ৮৫ সেন্ট বা ০.৯২ শতাংশ কমে ৯১ দশমিক ৩১ ডলারে দাঁড়ায়। এর আগে সোমবার দুই ধরনের তেলের দামই ৫ শতাংশের বেশি বেড়েছিল। যদিও মে মাসজুড়ে সম্ভাব্য শান্তিচুক্তির আশায় তেলের দাম ১৬ শতাংশেরও বেশি কমেছিল।

বাজার বিশ্লেষক প্রিয়াঙ্কা সচদেবা বলেন, সম্ভাব্য চুক্তির আশা থাকলেও এখন পর্যন্ত এমন কোনো বাস্তব পরিবর্তন দেখা যায়নি, যা তেলের বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে পারে। ফলে বিনিয়োগকারীরা এখনও পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন।

সোমবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সিএনবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানান, আলোচনা শেষ হয়ে গেলেও তার আপত্তি নেই। তবে পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি বলেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। একই দিনে এবিসি নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে যুদ্ধবিরতি সম্প্রসারণ এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে একটি সমঝোতা হতে পারে।

কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার বলেন, বর্তমানে বাজারের প্রধান নজর যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার অগ্রগতি, দুই পক্ষের বক্তব্য এবং বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি নিয়ে ইরানের অবস্থানের দিকে। তার মতে, আলোচনার ফলাফলই নির্ধারণ করবে তেলের বাজারে যুক্ত হওয়া ঝুঁকিজনিত অতিরিক্ত মূল্য ভবিষ্যতে টিকে থাকবে কি না।

এদিকে লেবানন আংশিক যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা কিছুটা কমার আশা তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি বৃহত্তর আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার পথে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ। তবে শান্তিচুক্তি নিয়ে সুস্পষ্ট অগ্রগতি না হওয়া পর্যন্ত তেলের বাজারে অস্থিরতা অব্যাহত থাকতে পারে।

উল্লেখ্য, সংঘাত শুরুর পর থেকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলে বাধা সৃষ্টি হওয়ায় বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও এলএনজি সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। এর ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে চাপ বাড়ার পাশাপাশি তেলের দামও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।