
পরিবার-পরিজনের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে ছুটি শেষে আবারও কর্মব্যস্ত জীবনে ফিরতে শুরু করেছেন রাজধানীমুখী মানুষ। সরকারি ছুটি শেষ হওয়ায় ঢাকায় ফেরা যাত্রীদের ভিড়ে সরগরম হয়ে উঠেছে কমলাপুর রেলস্টেশন। একই সঙ্গে বাস টার্মিনাল ও নৌপথেও দেখা গেছে যাত্রীদের বাড়তি চাপ।
মঙ্গলবার (২ জুন) ভোর থেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছেড়ে আসা ট্রেনগুলো একের পর এক কমলাপুর রেলস্টেশনে পৌঁছাতে থাকে। হাতে ব্যাগ, কাঁধে লাগেজ আর কর্মস্থলে ফেরার তাড়ায় ব্যস্ত মানুষের উপস্থিতিতে স্টেশনজুড়ে তৈরি হয় পরিচিত কর্মচাঞ্চল্য।
যাত্রীরা জানিয়েছেন, ঈদের আগে বাড়ি যাওয়ার সময় যে ভোগান্তি ও চাপের মুখোমুখি হতে হয়েছিল, ফিরতি যাত্রায় তার তুলনায় পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক ছিল। অধিকাংশ ট্রেন নির্ধারিত সময়ের কাছাকাছি চলাচল করায় যাত্রীরা স্বস্তির সঙ্গে ঢাকায় ফিরতে পেরেছেন।
জামালপুর থেকে ফেরা যাত্রী সোহেল মিয়া বলেন, দীর্ঘ পথ পাড়ি দিলেও এবার যাত্রা বেশ স্বাভাবিক ছিল। ঈদের আগের অতিরিক্ত ভিড় ও ধাক্কাধাক্কির তুলনায় পরিবেশ অনেক ভালো ছিল। আরেক যাত্রী জানান, ট্রেন সময়মতো ছেড়েছে এবং নির্ধারিত সময়েই গন্তব্যে পৌঁছেছে, যা যাত্রাকে আরও স্বস্তিদায়ক করেছে।
তবে আসন পূর্ণ হয়ে যাওয়ায় অনেক যাত্রীকে দাঁড়িয়ে ভ্রমণ করতে হয়েছে। তারপরও সামগ্রিকভাবে এবারের ফিরতি যাত্রা নিয়ে সন্তুষ্টির কথা জানিয়েছেন বেশিরভাগ মানুষ। এদিকে নোয়াখালী থেকে ঢাকায় ফেরা এক নারী যাত্রী যাত্রাপথে তার গলার সোনার চেইন হারানোর অভিযোগ করেছেন। বিষয়টি জানার পর রেলওয়ের নিরাপত্তাকর্মীরা খোঁজাখুঁজি করলেও হারানো চেইন উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। ঘটনাটি যাত্রীদের মধ্যে কিছুটা উদ্বেগেরও সৃষ্টি করেছে।
অন্যদিকে নোয়াখালী, জামালপুর ও চট্টগ্রাম রুটের কয়েকটি ট্রেন নির্ধারিত সময়ের চেয়ে দেরিতে ছেড়ে আসায় কিছু যাত্রীকে অতিরিক্ত সময় ট্রেনে কাটাতে হয়েছে। যদিও বড় ধরনের কোনো শিডিউল বিপর্যয় ঘটেনি।
রেলওয়ের কর্মকর্তারা জানান, ঈদের পরও বিপুলসংখ্যক মানুষ ঢাকায় ফিরছেন। তাদের বেশিরভাগই আগেই টিকিট সংগ্রহ করেছিলেন। ফলে কমলাপুর রেলস্টেশনসহ রাজধানীর বিভিন্ন পরিবহনকেন্দ্রে এখনও স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় বেশি যাত্রী চলাচল করছে।
আপনার মতামত লিখুন :