ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে আংশিক যুদ্ধবিরতি ঘোষণা


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : জুন ২, ২০২৬, ৮:২৬ অপরাহ্ণ
ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে আংশিক যুদ্ধবিরতি ঘোষণা

লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েলের মধ্যে আংশিক যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিয়েছে লেবানন। সোমবার (১ জুন) দেওয়া এই ঘোষণা চলমান সংঘাতে উত্তেজনা কিছুটা হলেও কমার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে এ সংঘাতে ইতোমধ্যে এক হাজারের বেশি লেবাননি নাগরিক নিহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।

ওয়াশিংটনে লেবানন দূতাবাসের তথ্য অনুযায়ী, এই চুক্তি সম্পূর্ণ যুদ্ধবিরতি নয়, বরং একটি সীমিত সমঝোতা। এতে বলা হয়েছে, ইসরায়েল বৈরুত ও এর শহরতলিতে হিজবুল্লাহ লক্ষ্য করে হামলা চালাবে না, আর হিজবুল্লাহও ইসরায়েলের ওপর রকেট ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বন্ধ রাখবে।

গত কয়েক মাস ধরে চলমান সংঘাতের মধ্যে মার্চ থেকে দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি সামরিক অভিযান আরও জোরদার হয়। এর মধ্যেই সোমবার সন্ধ্যায়ও দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ অব্যাহত ছিল। মঙ্গলবার (২ জুন) ভোরে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দাবি করে, লেবানন থেকে ছোড়া দুটি লক্ষ্যবস্তু আকাশেই ধ্বংস করা হয়েছে। তবে এতে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

এদিকে আংশিক এই যুদ্ধবিরতির ঘোষণা প্রথম দেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দাবি করেন, মধ্যস্থতার মাধ্যমে হিজবুল্লাহ ইসরায়েলের ওপর হামলা বন্ধে সম্মত হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুও বৈরুতে বড় ধরনের হামলার পরিকল্পনা সীমিত করতে রাজি হয়েছেন। তবে ট্রাম্পের বক্তব্যের পরই ভিন্ন সুর শোনা যায় ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর দিক থেকে। নেতানিয়াহু জানান, দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকবে। বর্তমানে ইসরায়েলি স্থলবাহিনী জাহারানি নদীর দিকে অগ্রসর হচ্ছে, যা গত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে গভীর অনুপ্রবেশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

অন্যদিকে হিজবুল্লাহ নেতা হাসান ফাদলাল্লাহ জানিয়েছেন, তারা লেবানন থেকে ইসরায়েলি বাহিনী সম্পূর্ণ প্রত্যাহার হলে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতিকে সমর্থন করবেন। তবে ইসরায়েলের ভেতরে হামলা পুরোপুরি বন্ধ হবে কি না, সে বিষয়ে তিনি স্পষ্ট করে কিছু বলেননি। লেবানন সরকার জানিয়েছে, বুধবার (৩ জুন) ওয়াশিংটনে ইসরায়েলের সঙ্গে আলোচনায় যুদ্ধবিরতি আরও সম্প্রসারণের চেষ্টা করা হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই আংশিক যুদ্ধবিরতি দীর্ঘমেয়াদে পূর্ণ শান্তির দিকে অগ্রসর হবে কি না, তা নির্ভর করছে উভয় পক্ষের বাস্তব পদক্ষেপের ওপর। তবে বর্তমান পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হওয়ার পথে এখনো বড় অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।