অর্থনীতি নিয়ন্ত্রণমুক্ত করা হবে: অর্থমন্ত্রী


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : জুন ২, ২০২৬, ৬:১০ অপরাহ্ণ
অর্থনীতি নিয়ন্ত্রণমুক্ত করা হবে: অর্থমন্ত্রী

অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, দেশের অর্থনীতিকে ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রণমুক্ত করা হবে এবং এর বিকাশে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এ প্রক্রিয়ায় কেউ বাধা সৃষ্টি করার চেষ্টা করলে তাকে ছাড় দেওয়া হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (২ জুন) ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম আয়োজিত ‘বাজেট ২০২৬-২৭: প্রত্যাশা ও বাস্তবতা’ শীর্ষক আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশের অর্থনীতিকে শুধু শিল্প-কারখানাভিত্তিক দৃষ্টিভঙ্গিতে মূল্যায়ন করা ঠিক নয়। বর্তমানে সৃজনশীল বা ক্রিয়েটিভ সেক্টরও জাতীয় অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তাই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে এ খাতকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, গ্রামের বিপুলসংখ্যক মানুষ এবং নারীরা বিভিন্ন ধরনের উৎপাদনশীল কাজে যুক্ত থাকলেও বাজেট প্রণয়ন ও অর্থনৈতিক পরিকল্পনায় তাদের অবদান যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয় না। ফলে তারা ন্যূনতম জীবিকা নির্বাহের ক্ষেত্রেও নানা সীমাবদ্ধতার মুখে পড়ছেন। এ অবস্থার পরিবর্তনে সরকার বেসরকারি খাত ও এনজিওগুলোর সহযোগিতায় তাদের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করবে।

নিম্ন আয়ের মানুষের কথা উল্লেখ করে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, দেশের দরিদ্র জনগোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরেই বাজেট সুবিধা থেকে বঞ্চিত। বর্তমানে বিনিয়োগ কমে যাওয়া এবং বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ হ্রাস পাওয়ায় দারিদ্র্যের ঝুঁকি আরও বেড়েছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

তিনি জানান, ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধাভোগী নির্বাচন প্রক্রিয়ায় কোনো রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ নেই। পাশাপাশি দায়িত্ব গ্রহণের পর স্বল্প সময়ের মধ্যে নতুন বাজেট প্রণয়ন একটি বড় চ্যালেঞ্জ ছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকার একটি ‘ভঙ্গুর’ অর্থনৈতিক অবস্থা উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছে। ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, অনেক ব্যাংক পর্যাপ্ত মূলধন সংকটে রয়েছে এবং অতীতে অনিয়ম ও লুটপাটের কারণে খাতটি ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে। আলোচনায় অংশ নেওয়া অর্থনীতিবিদ, ব্যবসায়ী ও সাংবাদিকরা আসন্ন বাজেটকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক, বিনিয়োগবান্ধব এবং কর্মসংস্থানমুখী করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।