
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতিচারণমূলক নিবন্ধ ‘একটি জাতির জন্ম’ পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করার পরামর্শ দিয়েছেন শিক্ষা ও ইতিহাসবিদসহ বিশিষ্টজনরা। তাদের মতে, এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে মহান মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশের স্বাধীনতার সঠিক ইতিহাস সম্পর্কে তথ্যপূর্ণ ধারণা দেবে।
১৯৭২ সালে স্বাধীনতার প্রথমবার্ষিকী উপলক্ষে ‘দৈনিক বাংলা’ পত্রিকায় প্রকাশিত নিবন্ধটি ১৯৭৪ সালে ‘সাপ্তাহিক বিচিত্রা’-তেও পুনর্মুদ্রিত হয়েছিল। এবারের শাহাদাৎবার্ষিকী (৩০ মে) উপলক্ষে জিয়াউর রহমানের জীবন, মুক্তিযুদ্ধ ও জাতির গঠনে অবদান নিয়ে আলোচনা ত্বরান্বিত হয়েছে।
বাংলা একাডেমির সভাপতি অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক এবং ইতিহাসবিদ অধ্যাপক সৈয়দ আনোয়ার হোসেনসহ অনেক বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ প্রবন্ধটিকে ‘ঐতিহাসিক দলিল’ হিসেবে বর্ণনা করে পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করার প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আনোয়ারউল্লাহ চৌধুরী ও ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ইসরাফিলও এই প্রবন্ধের তথ্যবহুলতা ও শিক্ষামূলক মানের প্রশংসা করেছেন।
‘একটি জাতির জন্ম’-এ জিয়াউর রহমান মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতি, ১৯৭১ সালের ২৫ ও ২৬ মার্চের কালরাতের ঘটনাবলি, বাঙালি সেনাদের সংগঠন এবং স্বাধীনতার ঘোষণা সংক্রান্ত স্মৃতিচারণ তুলে ধরেছেন। তিনি পাকিস্তানি শাসনামলে বাঙালিদের সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক দমন, জাতীয়তাবাদী আন্দোলন, এবং মুক্তিযুদ্ধের পটভূমি বিশদভাবে বর্ণনা করেছেন।
জিয়াউর রহমানের প্রবন্ধে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৫৪ ও ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচন, ১৯৬৫ সালের পাক-ভারত যুদ্ধ, ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান এবং আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার প্রভাবসহ গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ঘটনাগুলোও বিশ্লেষণ করা হয়েছে। নিবন্ধটি পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত হলে নতুন প্রজন্ম বাংলাদেশের স্বাধীনতার সংগ্রাম ও ঐতিহাসিক দিকগুলো সহজে ও সঠিকভাবে জানতে পারবে।
রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে জিয়াউর রহমান পরবর্তীতে বাংলাদেশের বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেন, একদলীয় বাকশাল শাসন বাতিল করেন এবং নাগরিকদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করেন, যা দেশকে সমন্বিত ও বহুসাংস্কৃতিক রাষ্ট্র হিসেবে এগিয়ে নিয়ে যেতে সহায়ক হয়েছিল।
আপনার মতামত লিখুন :