
১৯৩০ সালে উরুগুয়েতে শুরু হওয়া বিশ্বকাপ ফুটবল এককালের ছোট পরিসরের টুর্নামেন্ট থেকে আজ বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনের সবচেয়ে বড় আসরে পরিণত হয়েছে। মাত্র ১৩টি দল নিয়ে যাত্রা শুরু করা এই আসর ২০২৬ সালে পৌঁছাতে যাচ্ছে ৪৮ দলের বিশাল কাঠামোয়।
যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে ২০২৬ বিশ্বকাপ হবে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আসর। এবারের টুর্নামেন্টে থাকবে ১২টি গ্রুপ, নতুনভাবে যুক্ত শেষ বত্রিশ পর্ব এবং সব মিলিয়ে ১০৪টি ম্যাচ—যা আগের সব আসরকে ছাড়িয়ে যাবে।
প্রথম বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছিল মাত্র ১৩ দেশ। তখন ফিফার সদস্যসংখ্যাও ছিল সীমিত। ইউরোপ ও আমেরিকার বাইরে থেকে অংশগ্রহণ ছিল খুবই কম। দীর্ঘ সমুদ্রযাত্রার কারণে জাপান ও সিয়াম (বর্তমান থাইল্যান্ড) অংশ নিতে পারেনি, আর মিসর জাহাজ মিস করায় খেলতে পারেনি।
সেই প্রথম আসরের ফরম্যাটও ছিল সংক্ষিপ্ত। চারটি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়নরা সরাসরি সেমিফাইনালে উঠত। বর্তমানের মতো দীর্ঘ নকআউট পর্ব তখন ছিল না।
সময়ের সঙ্গে বিশ্বকাপের কাঠামোতে বড় পরিবর্তন আসে। ১৯৮২ সালে দলসংখ্যা বাড়িয়ে ২৪ করা হয় এবং ১৯৯৮ সাল থেকে তা ৩২ দলে উন্নীত হয়। দীর্ঘ প্রায় তিন দশক এই কাঠামোই বজায় ছিল।
২০২৬ সালে এসে আবারও বড় পরিবর্তন ঘটছে। ৪৮ দলের এই আসরে ইউরোপ থেকে ১৬টি, আফ্রিকা থেকে ৯টি, এশিয়া থেকে ৮টি, দক্ষিণ আমেরিকা ও কনকাকাফ থেকে ৬টি করে দল অংশ নেবে। ওশেনিয়া প্রথমবারের মতো সরাসরি একটি নিশ্চিত স্থান পেয়েছে, যেখানে প্রতিনিধিত্ব করবে নিউজিল্যান্ড।
আয়োজক দেশ যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো কনকাকাফ অঞ্চলের কোটা হিসেবেই অন্তর্ভুক্ত। এই সম্প্রসারণের ফলে বিশ্বের প্রায় সব অঞ্চলের প্রতিনিধিত্ব আরও বাড়বে।
ট্রফিতেও এসেছে পরিবর্তন। ১৯৩০ থেকে ১৯৭৪ সাল পর্যন্ত ব্যবহৃত হয়েছিল জুলে রিমে ট্রফি, পরে চালু হয় বর্তমান সোনালি বিশ্বকাপ ট্রফি, যা এখন ফুটবলের সর্বোচ্চ অর্জনের প্রতীক।
এক শতাব্দীর এই যাত্রায় বিশ্বকাপ এখন আর শুধু একটি টুর্নামেন্ট নয়—এটি হয়ে উঠেছে বৈশ্বিক ফুটবলের সবচেয়ে বড় উৎসব, যেখানে ২০২৬ সংস্করণে যোগ হচ্ছে নতুন ইতিহাস, নতুন দল ও নতুন স্বপ্ন।
আপনার মতামত লিখুন :