সীতাকুণ্ডে বৈধ গরুর হাট বন্ধের ষড়যন্ত্রের অভিযোগে ইজারাদারের সংবাদ সম্মেলন


তুহিন রহমান, সীতাকুন্ড প্রকাশের সময় : মে ২৬, ২০২৬, ১২:৫৫ অপরাহ্ণ
সীতাকুণ্ডে বৈধ গরুর হাট বন্ধের ষড়যন্ত্রের অভিযোগে ইজারাদারের সংবাদ সম্মেলন

চট্টগ্রামের অলংকার গরু বেপারী সিন্ডিকেট আদালতে ভুল তথ্য উপস্থাপন করে সীতাকুণ্ডে বৈধভাবে স্থাপিত গরুর হাট বন্ধের অপচেষ্টা করছে—এমন অভিযোগ তুলে প্রতিবাদ জানিয়েছে হাটের ইজারাদার পক্ষ। এ ঘটনায় সোমবার সন্ধ্যায় সীতাকুণ্ড প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে ইজারাদার মো. সাজ্জাদ হোসেনের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মো. নাজিম উদ্দীন। তিনি দাবি করেন, পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে স্থানীয় চাহিদার ভিত্তিতে সীতাকুণ্ড উপজেলার পাক্কা রাস্তার মাথা এলাকায় ড্রিম স্টিল রি-রোলিং মিলস মাঠে অস্থায়ী গরুর হাটটি স্থাপন করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, জেলা প্রশাসকের অনুমোদনক্রমে উপজেলা পরিষদের মাধ্যমে ‘হাট ও বাজার স্থাপন ও ব্যবস্থাপনা বিধিমালা, ২০২৫’ অনুযায়ী উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে সর্বোচ্চ দরদাতাকে ইজারা দেওয়া হয়েছে। বিধিমালার ১৫ নম্বর ধারা অনুযায়ী জেলা প্রশাসকের অস্থায়ী পশুর হাট ইজারা দেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে।

তবে চট্টগ্রাম নগরের সাগরিকা গরুর হাট ইজারাদার মো. ফজলে আলম চৌধুরী হাইকোর্টে রিট করে হাটটি বন্ধের আবেদন করেছেন বলে জানান বক্তারা। রিটে হাটটিকে অবৈধ, অনুমোদনবিহীন এবং সিটি করপোরেশন এলাকায় ও মহাসড়কের ওপর স্থাপিত বলে দাবি করা হয়।

ইজারাদার পক্ষের দাবি, এসব তথ্য সঠিক নয় এবং আদালতে ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, হাটটি সিটি করপোরেশন এলাকায় নয়, বরং সীতাকুণ্ড উপজেলার সলিমপুর ইউনিয়নে অবস্থিত। ফলে এর সঙ্গে সিটি করপোরেশনের কোনো প্রশাসনিক সম্পর্ক নেই।

স্থানীয়দের মতে, এটি সলিমপুর ইউনিয়নের একমাত্র অস্থায়ী গরুর হাট হওয়ায় হাটটি বন্ধ হয়ে গেলে কোরবানির পশু কিনতে সাধারণ মানুষকে দূরবর্তী এলাকায় যেতে হবে, যা ভোগান্তি বাড়াবে।

অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে রোববার সকালে চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সাখাওয়াত জামিল সৈকত হাট এলাকা পরিদর্শন করেন। তিনি বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে প্রতিবেদন জমা দেবেন বলে জানা গেছে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন মো. খোরশেদ আলম, দিদারুল আলম, ড্রিম রি-রোলিং মিলস অস্থায়ী বাজারের পরিচালক সোহেল সরওয়ারসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।