
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান আঞ্চলিক সংকটের প্রেক্ষাপটে বন্ধুত্ব ও মানবিক সহমর্মিতার নিদর্শন হিসেবে কুয়েতে ২৪০ টন খাদ্যসামগ্রী পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। সোমবার (২৫ মে) থেকে একাধিক বিশেষ ফ্লাইটে এসব খাদ্যসামগ্রী কুয়েতে পৌঁছানো শুরু হবে।
সরকার জানিয়েছে, বৃহত্তর মানবিক সহায়তা কর্মসূচির অংশ হিসেবে পর্যায়ক্রমে বাংলাদেশ থেকে মোট ২৪০ টন খাদ্যসামগ্রী পাঠানো হবে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকার কারণে কুয়েতের সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর যে চাপ তৈরি হয়েছে, তা মোকাবিলায় এই সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এ উপলক্ষে কুয়েতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে কুয়েতের আমির শেখ মেশাল আল-আহমাদ আল-জাবের আল-সাবাহর কাছে একটি শুভেচ্ছাপত্র হস্তান্তর করেন হুমায়ুন কবির। পত্রে কুয়েতের জনগণের শান্তি, নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধি কামনার পাশাপাশি দুই দেশের বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদারের প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।
বাংলাদেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলে আরও উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী রাশিদুজ্জামান মিল্লাত, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক (পশ্চিম এশিয়া) এবং কুয়েতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল সৈয়দ তারেক হোসেন।
সফরকালে উভয় দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, আঞ্চলিক পরিস্থিতি, মানবিক সহায়তা এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জনশক্তি, খাদ্য নিরাপত্তা ও বেসামরিক বিমান চলাচলসহ সম্ভাবনাময় বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
পশ্চিম এশিয়ার বর্তমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে কুয়েতের প্রতি বাংলাদেশের এই সহায়তা দুই দেশের গভীর বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
আপনার মতামত লিখুন :