ঈদ সামনে, সরাইলের পশুর হাটে উপচে পড়া ভিড়


সরাইল ক্রাইম রিপোর্টার, ফয়জুল কবির প্রকাশের সময় : মে ২৫, ২০২৬, ২:৪৯ অপরাহ্ণ
ঈদ সামনে, সরাইলের পশুর হাটে উপচে পড়া ভিড়

পবিত্র ঈদুল আজহা ঘনিয়ে আসতেই ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজজেলায় প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে কোরবানির পশুর হাটগুলোতে। উপজেলার বিভিন্ন স্থানে স্থায়ী ও অস্থায়ী মিলিয়ে প্রায় ৭ থেকে ৮টি পশুর হাট বসেছে। দেশীয় জাতের গরু, মহিষ, ছাগল ও ভেড়া নিয়ে খামারি ও ব্যবসায়ীরা ভিড় জমাচ্ছেন এসব হাটে। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ক্রেতা-বিক্রেতাদের উপস্থিতিতে সরগরম হয়ে উঠছে পুরো এলাকা।

উপজেলার একমাত্র স্থায়ী পশুর হাট হিসেবে পরিচিত সরাইল সদর এলাকার বড্ডাপাড়া গরুর বাজার প্রতি সোমবার সপ্তাহে একদিন বসে। দীর্ঘদিন ধরে এ হাটে সরাইল ছাড়াও পাশ্ববর্তী নাসিরনগর, লাখাইসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে পশু নিয়ে আসেন বিক্রেতারা। কোরবানির ঈদকে ঘিরে বাজারটিতে পশুর সরবরাহও কয়েকগুণ বেড়ে গেছে।

তবে বাজারটির প্রধান সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে জায়গার সংকট। ক্রেতা ও বিক্রেতাদের অভিযোগ, হাটের নির্ধারিত জায়গার বড় একটি অংশ বিভিন্ন দোকানপাট ও স্থাপনার দখলে চলে যাওয়ায় পশু রাখার পর্যাপ্ত স্থান নেই। ফলে বাধ্য হয়ে হাটটি এখন সরাইল-নাসিরনগর-লাখাই আঞ্চলিক সড়কের দুই পাশজুড়ে বিস্তৃত হচ্ছে। এতে সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র যানজট, পাশাপাশি বাড়ছে দুর্ঘটনার আশঙ্কাও।

হাটে আসা ক্রেতাদের ভাষ্য, অতিরিক্ত ভিড় ও সংকীর্ণ জায়গার কারণে পশু দেখাশোনা, দরদাম ও চলাচলে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। একই ধরনের অভিযোগ বিক্রেতাদেরও। তাদের মতে, পর্যাপ্ত ও পরিকল্পিত জায়গা থাকলে আরও বেশি পশু আনা যেত এবং বেচাকেনাও স্বাচ্ছন্দ্যে সম্পন্ন হতো।

অন্যদিকে, উপজেলার কালীকচ্ছ বাজারে স্থায়ী বা অস্থায়ী পশুর হাট না থাকলেও প্রতি বছর কোরবানির মৌসুমে সেখানে প্রচুর গরু ও মহিষ ওঠে। ক্রেতা-বিক্রেতারা তুলনামূলক স্বাচ্ছন্দ্যে সেখানে কোরবানির পশু কেনাবেচা করতে পারছেন। শুধু ঈদের সময় নয়, বছরের অন্যান্য সময়েও কালীকচ্ছ বাজারে গরু-মহিষের সরবরাহ থাকে বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, সরাইল উপজেলার একমাত্র স্থায়ী পশুর হাট বড্ডাপাড়াকে পরিকল্পিতভাবে আধুনিকায়ন করা জরুরি। এজন্য নির্দিষ্ট ও প্রশস্ত জায়গা সংরক্ষণ, অবৈধ দখল উচ্ছেদ এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত সুবিধা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তারা। অন্যথায় ভবিষ্যতে কোরবানির মৌসুমে ক্রেতা-বিক্রেতাদের দুর্ভোগ আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।