জুলাই গণঅভ্যুত্থান মামলায় স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিতের অঙ্গীকার চিফ প্রসিকিউটরের


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : মে ২৪, ২০২৬, ১১:০৪ পূর্বাহ্ণ
জুলাই গণঅভ্যুত্থান মামলায় স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিতের অঙ্গীকার চিফ প্রসিকিউটরের

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বলেছেন, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার নিয়েই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠিত হয়েছিল এবং সেই লক্ষ্য অর্জনে এখনও নিষ্ঠা, স্বচ্ছতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে বিচার কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। সম্প্রতি দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ও প্রসিকিউশন উভয় পক্ষই ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। আসামিপক্ষ আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য আইনে যে সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার কথা, তা নিশ্চিত করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ভিকটিম পরিবারগুলোর অভিযোগ, বক্তব্য, প্রমাণ ও সাক্ষ্য সংগ্রহেও সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় আহত, নিহত, গুম ও খুনের শিকার পরিবারগুলোর প্রতি তার গভীর সমবেদনা রয়েছে। আন্দোলনের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে সম্পৃক্ত থাকায় পরিবারগুলোর শোক তিনি গভীরভাবে অনুভব করেন বলেও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “জুলাই শহীদ পরিবারগুলো যেভাবে ন্যায়বিচারের প্রত্যাশা করে, আমিও একইভাবে সেই প্রত্যাশা করি। প্রতিটি মামলায় শাস্তি নিশ্চিত করতে আমরা কঠোর পরিশ্রম করছি। স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপ সম্পন্ন করা হচ্ছে।”

মো. আমিনুল ইসলাম জানান, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এখন পর্যন্ত মানবতাবিরোধী অপরাধের পাঁচটি মামলার রায় হয়েছে। এর মধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা-র বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার রায়ও রয়েছে। এছাড়া হাসানুল হক ইনু-র বিরুদ্ধে একটি মামলা রায়ের অপেক্ষায় রয়েছে। তিনি আরও জানান, বর্তমানে ২২টি মামলা বিচারাধীন এবং ৩১টি মামলার তদন্ত চলছে। এখন পর্যন্ত ১০৫টি অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়া আরও প্রায় ৪৫০টি অভিযোগ প্রসিকিউশনের কাছে জমা রয়েছে, যা যাচাই-বাছাই শেষে তদন্তে পাঠানো হবে।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, “প্রতিটি মামলাই চ্যালেঞ্জিং। কারণ জুলাই গণঅভ্যুত্থান দমনে জড়িত অনেকেই সমাজের প্রভাবশালী ব্যক্তি। পুলিশ, প্রশাসন, রাজনীতি ও সাংবাদিকতাসহ বিভিন্ন পেশার উচ্চপর্যায়ের ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা থাকায় সাক্ষ্য-প্রমাণ সংগ্রহ সবসময় সহজ হয় না।” তিনি জানান, বর্তমানে দুটি ট্রাইব্যুনালেই নিয়মিত বিচারকাজ চলছে। প্রসিকিউশনে ১৯ জন প্রসিকিউটর ও ২৪ জন তদন্ত কর্মকর্তা কাজ করছেন। তদন্ত কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন, সাক্ষাৎকার গ্রহণ, নথি সংগ্রহ ও ফরেনসিক বিশ্লেষণের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন।

বিচার কার্যক্রম নিয়ে তিনি বলেন, “বিচার দ্রুত করলে অবিচারের আশঙ্কা থাকে, আবার অযথা দেরি হলে ভিকটিম পরিবারগুলো ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হয়। তাই নিয়মিত ও আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই প্রতিটি মামলার বিচার চলছে।” তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, মামলাগুলোর বিচার স্বাভাবিক গতিতে এগোলে শিগগিরই একটি বড় অংশ নিষ্পত্তি সম্ভব হবে এবং এর মাধ্যমে দেশে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে।