১১ নারীকে ধর্ষণের পর হত্যা: দেড় যুগ পরও বিচার হয়নি সেই রসু খাঁর


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : মে ২৩, ২০২৬, ৩:০৬ অপরাহ্ণ
১১ নারীকে ধর্ষণের পর হত্যা: দেড় যুগ পরও বিচার হয়নি সেই রসু খাঁর

দেশের আলোচিত সিরিয়াল কিলার রসু খাঁর দেড় যুগের বেশি সময় ধরে সাজা কার্যকর না হওয়াকে কেন্দ্র করে আবারও বিচার ব্যবস্থার দীর্ঘসূত্রতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। একই সময়ে রাজধানীর পল্লবীতে ৭ বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভের মধ্যেই এই আলোচনা আরও জোরালো হয়েছে।

রসু খাঁ, যিনি ১১ জন নারীকে ধর্ষণের পর হত্যা করার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন, ২০০৯ সালে গ্রেপ্তারের পর থেকে একাধিক মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হন। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালে নিম্ন আদালত এবং পরে ২০২৪ সালে হাইকোর্ট তার মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখে। তবে রায় বহাল থাকার পরও এখনো তার দণ্ড কার্যকর হয়নি। বর্তমানে তিনি গাজীপুরের কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারের কনডেম সেলে বন্দি আছেন।

তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা, আপিল ও আইনি জটিলতার কারণে বছরের পর বছর চূড়ান্ত রায় কার্যকর না হওয়ায় জনমনে প্রশ্ন উঠছে— চূড়ান্তভাবে দোষী সাব্যস্ত ভয়ংকর অপরাধীদের শাস্তি বাস্তবায়নে কেন এত বিলম্ব?

রসু খাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি প্রথমে একজন সাধারণ ব্যক্তি হিসেবে জীবনযাপন করতেন। পরবর্তীতে প্রেমে ব্যর্থতা ও ব্যক্তিগত ক্ষোভ থেকে নারীদের প্রতি বিদ্বেষ তৈরি হয় এবং তিনি একের পর এক হত্যাকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন। অধিকাংশ ভুক্তভোগী ছিলেন পোশাকশ্রমিক নারী। অভিযোগ রয়েছে, তিনি প্রলোভন ও বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাদের ফাঁদে ফেলতেন।

২০০৯ সালের পর একাধিক হত্যা মামলায় তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হলেও সব মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি এখনো হয়নি। অন্যদিকে একই ধরনের আরও চাঞ্চল্যকর মামলাগুলোরও অগ্রগতি ধীরগতির বলে অভিযোগ রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সাক্ষ্য গ্রহণ, নথি প্রস্তুত, আপিল প্রক্রিয়া এবং প্রশাসনিক জটিলতার কারণে চূড়ান্ত রায় কার্যকরে বিলম্ব হচ্ছে। তবে এ ধরনের বিলম্ব বিচার ব্যবস্থার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা কমিয়ে দিতে পারে বলেও মত তাদের।

এদিকে শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দ্রুত বিচারের দাবি যখন জোরালো হচ্ছে, তখন রসু খাঁর মামলার অগ্রগতি নিয়ে আলোচনাও নতুন করে শুরু হয়েছে। জনমনে প্রশ্ন— চূড়ান্তভাবে দোষী প্রমাণিত অপরাধীদের শাস্তি কার্যকর করতে এত দেরি হলে অপরাধ প্রবণতা রোধ কতটা সম্ভব? সাধারণ মানুষ ও সচেতন মহল এখন দ্রুত বিচার ও দণ্ড কার্যকরের ওপর জোর দিচ্ছে, যাতে এমন ভয়াবহ অপরাধের পুনরাবৃত্তি কমানো যায় এবং ন্যায়বিচারের প্রতি আস্থা বজায় থাকে।