শিশু রিফাত হত্যায় বেরিয়ে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য 


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : মে ২৩, ২০২৬, ১২:১২ অপরাহ্ণ
শিশু রিফাত হত্যায় বেরিয়ে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য 

রাজধানীর কদমতলী এলাকায় সাত বছরের শিশু রিফাত হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া পাশের ফ্ল্যাটের সাবেক বাসিন্দা মায়া আক্তারের জিজ্ঞাসাবাদে ভয়াবহ ও চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, রুটি ও কলা খাওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে শিশুটিকে বাসায় ডেকে নিয়ে হত্যা করা হয়। পরে মরদেহ একটি চালের ড্রামে ভরে প্রায় ছয় কিলোমিটার দূরে গেন্ডারিয়া এলাকার ময়লার ভাগাড়ে ফেলে দেওয়া হয়।

তদন্ত সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি কদমতলীর খানকা শরীফ পুকুরপাড় এলাকায় খেলতে বের হয় শিশু রিফাত। এরপর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সে আর বাসায় না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। বিভিন্ন স্থানে মাইকিং ও অনুসন্ধান চালিয়েও তার কোনো সন্ধান না পেয়ে পরে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তারা।

পরদিন রাতে গেন্ডারিয়া এলাকার লোহারপুলের একটি ময়লার ভাগাড় থেকে একটি চালের ড্রাম উদ্ধার করে পুলিশ। পরে সেই ড্রাম খুলে শিশুটির মরদেহ পাওয়া যায়।

তদন্তে শুরুতে কোনো সূত্র না মিললেও মরদেহে মোড়ানো একটি পোশাক পুলিশকে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র দেয়। সেই সূত্র ধরে এবং সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে পুলিশ জানতে পারে, ১৮ ফেব্রুয়ারি মায়া আক্তার একটি ড্রাম অটোরিকশায় করে বাসা থেকে বের হচ্ছেন।

পরে তাকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে হত্যার বিস্তারিত তথ্য বেরিয়ে আসে বলে জানায় পুলিশ। কদমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ আশরাফুজ্জামান জানান, প্রায় পাঁচ মাস আগে নিহত রিফাতের পরিবার ও মায়া পাশাপাশি বাসায় থাকতেন। সে সময় একটি মোবাইল ফোন হারানোর ঘটনায় ক্ষোভ থেকে তিনি শিশুটিকে টার্গেট করেন।

পুলিশের দাবি অনুযায়ী, রিফাতকে চুরির কথা স্বীকার করাতে চাপ দেওয়া হয়। রাজি না হওয়ায় তাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। এরপর মরদেহ লুকাতে চালের ড্রামে ভরে দীর্ঘ সময় সেখানে রেখে পরে ফেলে দেওয়া হয়। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা আরও জানান, হত্যার পর নিজেকে নির্দোষ দেখাতে তিনি পরিবারের সঙ্গে খোঁজাখুঁজিতেও অংশ নেন। এ ঘটনায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন অভিযুক্ত মায়া আক্তার। নিহত শিশুর পরিবার দ্রুত বিচার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছে।