উপকূল রক্ষায় জাতীয় বাজেটে বিশেষ তহবিলের দাবি পরিবেশবাদীদের


সাতক্ষীরা জেলা প্রতিনিধি, রমজান আলী প্রকাশের সময় : মে ২৩, ২০২৬, ৬:০৫ অপরাহ্ণ
উপকূল রক্ষায় জাতীয় বাজেটে বিশেষ তহবিলের দাবি পরিবেশবাদীদের

সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, লবণাক্ততার বিস্তার, ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের ক্রমবর্ধমান ঝুঁকিতে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলীয় জনপদ ভয়াবহ সংকটের মুখে পড়েছে। খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাটসহ উপকূলীয় এলাকার পরিবেশ ও মানুষের জীবন-জীবিকা রক্ষায় আগামী জাতীয় বাজেটে বিশেষ বরাদ্দের দাবি জানিয়েছেন পরিবেশবাদীরা।

শনিবার সকাল ১১টায় সাতক্ষীরা শহরের পানসী রেস্টুরেন্টে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়। ‘ক্লাইমেট অ্যাকশন ফোরাম’-এর সাতক্ষীরা জেলা শাখা এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘লিডার্স’ ফোরামের সচিবালয় হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে।

সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন সাতক্ষীরা সরকারি মহিলা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর আব্দুল হামিদ। লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ফোরামের সাধারণ সম্পাদক মাধব চন্দ্র দত্ত।

বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে উপকূলীয় অঞ্চলে প্রতিনিয়ত লবণাক্ত পানি প্রবেশ করছে। এতে কৃষিজমির উর্বরতা নষ্ট হচ্ছে, দেখা দিচ্ছে সুপেয় পানির সংকট। একইসঙ্গে একের পর এক শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে বেড়িবাঁধ ভেঙে জনপদ প্লাবিত হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গবেষণা ও সূচকে বলা হয়, জলবায়ু ঝুঁকির দিক থেকে বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ দেশ। ২০৫০ সালের মধ্যে দেশের প্রায় ১৭ শতাংশ ভূখণ্ড ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে এবং ২১০০ সালের মধ্যে দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলের বিস্তীর্ণ এলাকা সমুদ্রগর্ভে বিলীন হতে পারে।

বক্তারা আরও জানান, গত দুই দশকে সিডর, আইলা, আম্পান, ইয়াস, সিত্রাং, মিধিলি ও রেমালের মতো ঘূর্ণিঝড়ে উপকূলীয় অঞ্চলে হাজার হাজার কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এতে শুধু আর্থিক ক্ষতিই নয়, বাস্তুচ্যুতি, কর্মসংস্থান সংকট ও স্বাস্থ্যঝুঁকিও বেড়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, উপকূলীয় এলাকার প্রায় ২৪০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে সামান্য জোয়ারেই বাঁধ ভেঙে লোকালয় প্লাবিত হচ্ছে।

পরিবেশকর্মীরা সুন্দরবনের সুরক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, সুন্দরবন উপকূলের প্রাকৃতিক রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করছে। একইসঙ্গে লাখো মানুষের জীবিকা ও জাতীয় অর্থনীতির সঙ্গে বনটির অস্তিত্ব জড়িত।

এসময় বক্তারা আসন্ন জাতীয় বাজেটে উপকূলীয় এলাকার জন্য বিশেষ তহবিল গঠন, টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ, জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামো গড়ে তোলা এবং স্থানীয় জনগণের অভিজ্ঞতা ও প্রয়োজনকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সভাপতি আবুল কাশেম, সাবেক সাধারণ সম্পাদক এম কামরুজ্জামান, আমিনা বিলকিস ময়না, এসএম শহীদুল ইসলাম, শেখ তানজির আহমেদ, আকরামুল ইসলাম, আসাদুজ্জামান সরদার, মো. হোসেন আলী, মিলন বিশ্বাস, শেখ সিদ্দিকুর রহমান ও ভূমিহীন নেতা আব্দুস সামাদসহ সুশীল সমাজ, পরিবেশকর্মী ও যুব প্রতিনিধিরা। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সাংবাদিক শরীফুল্লাহ কায়সার সুমন।