
বাগেরহাটের পূর্ব সুন্দরবনে বনদস্যু জাহাঙ্গীর বাহিনীর তৎপরতা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় দুই দফায় অন্তত ১৮ জন জেলেকে অপহরণ করেছে এই কুখ্যাত দস্যু বাহিনী। এতে সুন্দরবনে মাছ ও মধু আহরণে যাওয়া জেলে ও মৌয়ালদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
সর্বশেষ বুধবার দিবাগত রাতে আরও ৬ জেলেকে অস্ত্রের মুখে অপহরণ করে গহীন অরণ্যে নিয়ে যায় দস্যুরা। অপহৃতরা হলেন বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার উত্তর রাজাপুর গ্রামের আপন দুই ভাই হাফিজুল (২৪) ও ফাইজুর (২০), বেল্লাল মীর (৩৫), ছলেমান (৪০), বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার পদ্মা গ্রামের হাসিব (২১) এবং অপর এক অজ্ঞাত জেলে।
এর আগে মঙ্গলবার গভীর রাতে একই বাহিনী শরণখোলা রেঞ্জের ফুসফুসের চর এলাকা থেকে আরও ১২ জন জেলেকে অপহরণ করে বলে জানা গেছে। ফলে গত ২৪ ঘণ্টায় মোট অপহৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৮ জনে।
সুন্দরবন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার দিবাগত রাতে শরণখোলা রেঞ্জের ছাপড়াখালী এলাকার নদীতে মাছ ধরার সময় নৌকা ও ট্রলারে হামলা চালিয়ে জাহাঙ্গীর বাহিনীর সদস্যরা এই ৬ জেলেকে অপহরণ করে। অপহৃতদের মুক্তিপণের দাবিতে গভীর সুন্দরবনে আটকে রাখা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সুন্দরবনের শেলারচর টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফরেস্টার মো. মিজানুর রহমান জানান, দীর্ঘদিন ধরে জাহাঙ্গীর বাহিনী জেলে ও মৌয়ালদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায় করে আসছে। অপহৃতদের উদ্ধারে স্মার্ট পেট্রোলিং টিমসহ বনরক্ষীরা অভিযান চালাচ্ছে।
এদিকে স্থানীয় জেলে ও বনজীবীরা অভিযোগ করেছেন, সুন্দরবনে দস্যুদের দৌরাত্ম্য বেড়ে যাওয়ায় জীবিকার জন্য বনাঞ্চলে যাওয়া এখন চরম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তারা দ্রুত বনদস্যু দমন ও অপহৃতদের নিরাপদ উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন।
শরণখোলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামিনুল হক বলেন, এ বিষয়ে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
আপনার মতামত লিখুন :