পে স্কেলের সভা শেষ, সিদ্ধান্ত নিয়ে যা জানা গেল


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : মে ২১, ২০২৬, ৫:২৭ অপরাহ্ণ
পে স্কেলের সভা শেষ, সিদ্ধান্ত নিয়ে যা জানা গেল

নবম জাতীয় পে স্কেল নিয়ে সচিব কমিটির গুরুত্বপূর্ণ সভা শেষ হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২১ মে) সকাল ১১টায় সচিবালয়ে শুরু হওয়া এ বৈঠক দুপুরে শেষ হয়। কমিটির দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে, মূল্যস্ফীতির চাপ বিবেচনায় সরকারি চাকরির নিচের দুই স্তরের কর্মচারীদের বেতন ও সুযোগ-সুবিধা তুলনামূলকভাবে বেশি বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ওপরের স্তরের কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে সুবিধা কিছুটা কম বাড়ানোর প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

প্রস্তাবনায় সরকারি পেনশনভোগীদের পেনশন প্রায় শতভাগের কাছাকাছি বৃদ্ধির বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া প্রবীণ পেনশনভোগীদের জন্য চিকিৎসা ভাতা বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। হিসাব অনুযায়ী, নতুন পে স্কেল পুরোপুরি বাস্তবায়ন করলে সরকারের অতিরিক্ত প্রায় ৪৩ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের প্রয়োজন হতো। তবে বিদ্যমান ১০ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা সমন্বয় করলে অতিরিক্ত ব্যয় কমে প্রায় ৩৭ হাজার কোটি টাকায় নেমে আসবে বলে জানানো হয়েছে। এই ব্যয় বিবেচনায় নিয়ে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ রাখার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

কমিটি সূত্রে আরও জানা যায়, নবম পে স্কেলের আওতায় প্রশাসন, পুলিশ, শিক্ষক, স্বাস্থ্যকর্মী, মাঠ প্রশাসন এবং বিচার বিভাগসহ সব সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী অন্তর্ভুক্ত থাকবেন। প্রস্তাব অনুযায়ী, বর্তমানে বিদ্যমান ২০টি গ্রেডই বহাল থাকবে। সর্বনিম্ন গ্রেডের মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ গ্রেডের বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে।

এদিকে, মাসিক ২০ হাজার টাকার কম পেনশনপ্রাপ্তদের জন্য প্রায় শতভাগ পর্যন্ত পেনশন বৃদ্ধির প্রস্তাব রয়েছে। ২০ থেকে ৪০ হাজার টাকার মধ্যে পেনশনপ্রাপ্তদের ক্ষেত্রে প্রায় ৭৫ শতাংশ এবং ৪০ হাজার টাকার বেশি পেনশনপ্রাপ্তদের ক্ষেত্রে প্রায় ৫৫ শতাংশ বৃদ্ধির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। প্রবীণ পেনশনভোগীদের জন্য চিকিৎসা ভাতাও বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, ৭৫ বছরের বেশি বয়সীদের চিকিৎসা ভাতা ৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০ হাজার টাকা এবং ৫৫ বছরের কম বয়সীদের জন্য ৫ হাজার টাকা নির্ধারণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, কমিশনের সুপারিশগুলো চূড়ান্ত পর্যায়ে পর্যালোচনা করে বাস্তবায়নের রূপরেখা নির্ধারণ করা হবে।