
রাজধানীর পল্লবীতে সাত বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় এক সপ্তাহের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনারকে নির্দেশ দিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) তিনি বলেন, এ ধরনের ভয়াবহ ও নৃশংস ঘটনার বিচার দ্রুততম সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করতে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। একই সঙ্গে তদন্ত ও বিচার কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে নিতে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, মঙ্গলবার (১৯ মে) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে শিশুটি বাসা থেকে বের হলে অভিযুক্ত স্বপ্না তাকে কৌশলে নিজের রুমে নিয়ে যায়। পরে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শিশুটির মা তাকে স্কুলে যাওয়ার জন্য খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে অভিযুক্তের রুমের সামনে শিশুটির জুতা দেখতে পান তিনি।
পরে ডাকাডাকির পর কোনো সাড়া না পেয়ে শিশুটির বাবা-মা ও প্রতিবেশীরা দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। তখন তারা অভিযুক্তের শয়নকক্ষের মেঝেতে শিশুটির মস্তকবিহীন মরদেহ এবং একটি বালতির ভেতরে মাথা দেখতে পান। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক ও শোকের ছায়া নেমে আসে।
শিশুটির বাবা আবদুল হান্নান মোল্লা পল্লবী থানায় মামলা করেন। মামলায় সোহেল রানা, তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার এবং অজ্ঞাত আরও একজনকে আসামি করা হয়েছে। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে স্বপ্না আক্তারকে আটক করে এবং সোহেল রানাকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার সোহেল রানা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে সম্মত হয়েছে। তবে মামলার অপর অজ্ঞাত আসামি এখনো পলাতক রয়েছে।
এজাহার অনুযায়ী, শিশুটিকে ঘরে নিয়ে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যা করা হয় এবং মরদেহ টুকরো করা হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরে মরদেহের অংশগুলো ঘরের ভেতরে ছড়িয়ে রাখা হয়।
ঘটনার পর সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। বুধবার (২০ মে) রাতে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদীখানের ইছাপুর এলাকায় জানাজা শেষে শিশুটিকে দাফন করা হয়।
আপনার মতামত লিখুন :