কারাগারের আধুনিকায়নে নানামুখী উদ্যোগ সরকারের


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : মে ২১, ২০২৬, ৩:০৪ অপরাহ্ণ
কারাগারের আধুনিকায়নে নানামুখী উদ্যোগ সরকারের

দেশের কারাগারগুলোকে উন্নত বিশ্বের আদলে আধুনিক ও যুগোপযোগী করে বন্দিদের মাঝে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার। এসব উদ্যোগের মধ্যে রয়েছে চিকিৎসা সেবার মানোন্নয়ন, বন্দিদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তোলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন এবং খেলাধুলা ও বিভিন্ন বিনোদনের সুযোগ সৃষ্টি।

এছাড়া নতুন কারাগার নির্মাণ এবং পুরাতন কারাগারগুলোর পরিবেশ উন্নয়নের পরিকল্পনাও হাতে নেওয়া হয়েছে। কারা কর্তৃপক্ষ বলছে, এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে কারাগার ব্যবস্থাকে সংশোধন ও পুনর্বাসনমুখী করে তোলা হচ্ছে।

অতিরিক্ত কারা মহাপরিদর্শক কর্নেল মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল জানান, বিদ্যমান কারা আইন যুগোপযোগী করতে মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। এটি অনুমোদিত হলে বন্দিদের সংশোধন ও পুনর্বাসনে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সহজ হবে। তিনি আরও বলেন, সরকারের উদ্যোগে কারাগারগুলোতে ধারাবাহিকভাবে উন্নয়ন ও পুনর্বাসনমূলক কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ভবিষ্যতে বাংলাদেশের কারা ব্যবস্থা আন্তর্জাতিক মানের মানবিক ও সংশোধনমূলক ব্যবস্থার সঙ্গে সমান অবস্থানে পৌঁছাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

কারা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, বন্দিদের পুষ্টির মান উন্নয়নে খাদ্য তালিকায় মাছ ও মাংসের পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে। আগে দৈনিক প্রোটিন গ্রহণের পরিমাণ ছিল ৩৬ গ্রাম, যা বর্তমানে ৫৪ গ্রামে উন্নীত করা হয়েছে। এটিকে ১০০ গ্রামে উন্নীত করার প্রস্তাবও সরকারের কাছে পাঠানো হয়েছে। চিকিৎসা সেবার উন্নয়নে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে প্রেষণে চিকিৎসক আনা এবং নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় চিকিৎসক নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ৭২টি অ্যাম্বুলেন্স কেনার একটি প্রকল্প প্রক্রিয়াধীন রয়েছে, যা বাস্তবায়িত হলে বন্দিদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব হবে।

বন্দিদের মানসিক স্বস্তির জন্য বিভিন্ন উৎসবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করা হচ্ছে। অনেক বন্দি শিল্পীকে নিয়ে দল গঠন করা হয়েছে, যারা বিভিন্ন কারাগারে গিয়ে অনুষ্ঠান পরিবেশন করেন। এছাড়া বন্দিদের বিভিন্ন হাতের কাজ শেখানো হচ্ছে যাতে তারা আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পারেন। কারা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে ৭৪টি কারাগার রয়েছে। এর মধ্যে ১৫টি কেন্দ্রীয় ও ৫৯টি জেলা কারাগার। মোট ধারণক্ষমতা ৪৩ হাজার ১৫৭ জন হলেও বর্তমানে প্রায় ৮১ হাজার বন্দি রয়েছে।

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বর্তমানে ১০ হাজার ৮০০ বন্দি অবস্থান করছেন, যেখানে ধারণক্ষমতা ৪ হাজার ৫৯০ জন। সেখানে আধুনিক রুটি তৈরির মেশিন স্থাপন, খেলাধুলার ব্যবস্থা এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড চালু করা হয়েছে। এছাড়া চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় একটি অত্যাধুনিক কেন্দ্রীয় কারাগার নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যেখানে পুনর্বাসন, শিক্ষা ও খেলাধুলার আধুনিক সুযোগ-সুবিধা থাকবে।