ঈদে রেলযাত্রীদের জন্য বড় সুখবর


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : মে ২১, ২০২৬, ৯:১০ অপরাহ্ণ
ঈদে রেলযাত্রীদের জন্য বড় সুখবর

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে আগামী ২৫ থেকে ৩১ মে পর্যন্ত টানা সাত দিনের ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। দীর্ঘ এই ছুটিতে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে রেলস্টেশনগুলোতে তাৎক্ষণিক টিকিটের ব্যবস্থা রাখার ঘোষণা দিয়েছে রেলপথ মন্ত্রণালয়।

বৃহস্পতিবার (২১ মে) সচিবালয়ে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থাকে (বাসস) দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব এ তথ্য জানান। প্রতিমন্ত্রী বলেন, ঈদযাত্রায় অতিরিক্ত যাত্রীর চাপ সামাল দিতে সীমিত পরিসরে ইনস্ট্যান্ট বা তাৎক্ষণিক টিকিট চালু রাখা হবে। ফলে জরুরি প্রয়োজনে যাত্রীরা শেষ মুহূর্তেও বৈধ উপায়ে টিকিট সংগ্রহ করে গন্তব্যে যেতে পারবেন।

টিকিট কালোবাজারি রোধে সরকার জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, কমলাপুরসহ বড় বড় স্টেশনে বিনা টিকিটের যাত্রী প্রবেশ ঠেকাতে কঠোর নজরদারি থাকবে। একই সঙ্গে কালোবাজারি প্রতিরোধে গোয়েন্দা তৎপরতাও বাড়ানো হয়েছে। যাত্রীসেবার মান উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, স্টেশনের অপেক্ষাগার ও ওয়াশরুমের পরিবেশ উন্নত করা হয়েছে। কোনো ট্রেন নির্ধারিত সময়ের চেয়ে দেরিতে ছাড়লে যাত্রীদের মুঠোফোনে বার্তার মাধ্যমে আগাম জানিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

ঈদ উপলক্ষে রেলের সক্ষমতা অনুযায়ী অতিরিক্ত কোচ সংযোজন করা হবে জানিয়ে হাবিবুর রশিদ হাবিব বলেন, অতিরিক্ত চাহিদার কারণে কিছু ক্ষেত্রে দাঁড়িয়ে যাওয়ার টিকিটও দেওয়া হতে পারে। তিনি বলেন, “আমাদের সক্ষমতা সীমিত হলেও বিদ্যমান সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার করে যাত্রীদের সেবা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছি।” তিনি আরও জানান, ঈদের সময় গার্মেন্টসসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে একযোগে ছুটি শুরু হলে যাত্রীচাপ বেড়ে যায়। তাই রেলের ক্যারেজ ও ইঞ্জিন মেরামত করে সচল রাখার কাজ চলছে। এছাড়া বয়স্ক ও অসুস্থ যাত্রীদের জন্য স্টেশনে হুইলচেয়ার ও ট্রলি সার্ভিস চালু রাখা হয়েছে।

ঢাকার বিমানবন্দর রেলস্টেশনের যাত্রী ভোগান্তি কমাতে সেখানে নতুন একটি আধুনিক ছাউনি নির্মাণ করা হচ্ছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। এটি অস্থায়ী ওয়েটিং রুম হিসেবে ব্যবহৃত হবে এবং একসঙ্গে অন্তত ২০০ যাত্রী বসার সুযোগ পাবেন। রেলকে দেশের অন্যতম প্রধান গণপরিবহনে রূপান্তর করতে সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে বলেও জানান তিনি। বিশেষ করে ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-কক্সবাজার ও ঢাকা-সিলেট রুটের স্টেশনগুলোর অবকাঠামোগত উন্নয়নে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।